সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

নদী দখল ও দূষণ রোধে হচ্ছে তৃতীয় মাস্টারপ্ল্যান

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, নদী দখল ও দূষণ রোধ এবং নাব্য বৃদ্ধির জন্য তৃতীয় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। পদ্মা, মেঘনা, তুরাগ ও পুংলী নদীর দখল এবং দূষণ রোধের জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোপূর্বে বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, বালু, শীতলক্ষ্যাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর জন্য একটি এবং কর্ণফুলী নদীর জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান অনুমোদন করা হয়।

গতকাল রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে নদীগুলোর দূষণ রোধ এবং নাব্য বৃদ্ধির জন্য মাস্টারপ্ল্যান তৈরি-সংক্রান্ত কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ ও দখল রোধ এবং নাব্য বৃদ্ধির জন্য মাস্টারপ্ল্যান তৈরির নিমিত্ত ২০১৬ সালের ১৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেকের সভায় একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। ২০১৬ সালের ৫ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীকে সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালককে (প্রশাসন) সদস্যসচিব করে ২৫ সদস্যের এক কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির মাধ্যমে দুটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী অনুমোদিত হয়।

গতকালের সভায় পদ্মা ও মেঘনা নদীসহ ঢাকার তুরাগ ও পুংলী নদীর দখল, দূষণ রোধ এবং নাব্য বৃদ্ধিকল্পে তৃতীয় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটি এবং এর রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়। প্রথম দুটি মাস্টারপ্ল্যানের বাস্তবায়ন মনিটরিংয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে প্রধান করে আরো একটি কমিটি গঠন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আবদুস সামাদ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবীর বিন আনোয়ারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এদিকে সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এবার যাতে রাজধানীবাসীকে মশার উপদ্রব সহ্য করতে না হয়; সেজন্য আগে থেকেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ডেঙ্গু জ্বর যখন প্রায় মহামারি আকার ধারণ করেছিল; তখন ডেঙ্গুর জীবাণু বহনকারী মশা মারার ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছিল। এমনকি ওষুধ আমদানি নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তবে আগামীতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশা মারার ওষুধের মজুদ যথেষ্ট আছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সব সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন সব প্রতিষ্ঠান এ ভেক্টর (ডেঙ্গুর বাহক মশা) ম্যানেজমেন্টে কাজ করছি। গত বছরের যে অভিজ্ঞতা আছে; সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা আরো বেশি পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের মন্ত্রণালয় এবং সরকারি কর্মকর্তারা সবাই আন্তরিক। যদিও এখনো মশার প্রাদুর্ভাব দেখা যায়নি, বৃষ্টিও হয়নি। কিন্তু এর মধ্যে আমরা পাঁচ-ছয়টা মিটিং করে ফেলেছি এবং উই আর ওয়ার্কিং। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা সবার সঙ্গে রেগুলার কো-অর্ডিনেশন ও কো-অপারেশন আছে।’

চাঁপাই জেলা পরিষদের ২ সদস্যকে শপথ পড়ালেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত দুই সদস্যকে শপথ করিয়েছেন। গতকাল মন্ত্রীর অফিস কক্ষে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত সদস্য মো. আশরাফুল হক এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত সদস্য মো. আবদুল মান্নানকে মন্ত্রী শপথবাক্য পাঠ করান।

প্রসঙ্গত, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যদের মৃত্যুজনিত কারণে পদ দুটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। শূন্য পদ দুটিতে গত ১৩ জানুয়ারি নির্বাচন হয়। নির্বাচনে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আশরাফুল হক এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আবদুল মান্নান নির্বাচিত হন। সদ্য শপথ নেওয়া সদস্যদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠু ও যথাযথভাবে পালন করবেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

 

"