খননে প্রাণ পাচ্ছে ঢাকার ‘নড়াই খাল’

যে পরিকল্পনা ছিল মেয়র আনিসুল হকের

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনের পূর্বপাশ দিয়ে পথ চললে চোখে পড়বে খালটি, যা এক সময় ছিল নড়াই খাল। এ খালের তীরেই ব্রিটিশ আমলে ঐতিহ্যবাহী মেরাদিয়া হাট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জমিদার জানকি বল্লভ। যদিও খালের সঙ্গে সেই হাটটিও আজ মৃতপ্রায়। তখন একটি বড় বটগাছের নিচে হাট বসতো। পরে চাহিদা বাড়ায় বটগাছসংলগ্ন একটি পুকুরের চারপাশ ঘিরে ও পার্শ্ববর্তী মাঠে হাটের পরিসর বাড়ে। সেই বিস্তৃত পরিসর এখন আর নেই। কিন্তু এই খালকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার করে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক। পুরো প্রকল্পটি অনেকটা হাতিরঝিলের আদলেই করার পরিকল্পনা ছিল তার। জীবদ্দশায় তিনি এই খালটি নিয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনাও করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি প্রস্তাবনাও জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে তার মৃত্যুতে পরিকল্পনাটি ভেস্তে যেতে যেতে যেন বাস্তবায়নের পথেই হাঁটছে।

জানা গেছে, এই খালকে কেন্দ্র করে নেওয়া পরিকল্পনায় চারটি বিষয় প্রধান্য দেওয়া হয়েছিল। সেগুলো হলো খালের প্রবাহ সচল রাখা, দূষণমুক্ত রাখা, নৌযান চলাচল উপযোগী করা এবং আফতাবনগর ও বনশ্রীর মধ্যে যোগাযোগ নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে খনন। আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি আনিসুল হক প্রধানমন্ত্রীকেও জানিয়েছিলেন। প্রধনমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়াও দিয়েছিলেন।

আনিসুল হকের মৃত্যুর পর তার সেই প্রকল্পটি নিয়ে এখন কাজ করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রয়াত মেয়রের সেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে আফতাবনগর ও বনশ্রী এলাকার বাসিন্দারা হাতিরঝিলের মতো একটি দৃষ্টিনন্দন প্রকল্প পাবেন। তার স্বপ্ন ছিল প্রাকৃতিক জলাধার, পরিবেশবান্ধব বিনোদনকেন্দ্র, ক্যাম্পিং, সাঁতার, হাঁটার পথ তৈরি ও পরিবেশ-প্রকৃতির সঙ্গে নাগরিকদের মেলবন্ধন ঘটানো। সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে।

জানতে চাইলে নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, খালটি নিয়ে আনিসুল হকের মহাপরিকল্পনা ছিল। তিনি চেয়েছিলেন, খালটিকে হাতিরঝিলের সঙ্গে যুক্ত করে একটা আধুনিক ও নৈসর্গিক সৌন্দর্র্যের আধারে পরিণত করতে। তার এই পরিকল্পনার সঙ্গে আমিও যুক্ত ছিলাম। আনিসুল হক কতগুলো স্বপ্ন তৈরি করে গেছেন। প্রকল্পটি ছিল তার স্বপ্নের একটি অংশ। হাতিরঝিলের চলমান অংশটিই হতো এই নড়াই খাল। খালটির দুই পাড়ে ওয়াকওয়ে তৈরি করে খালের পানি ও পাড়ের গাছপালার সঙ্গে পথচারীদের একটা মেলবন্ধন তৈরি করতে চেয়েছিলেন। এর সঙ্গে একটা সিস্টেম করে হাতিরঝিলের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়া হতো।

এদিকে ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান, ঢাকা মহানগরী উন্নয়ন পরিকল্পনা (ডিএমডিপি) স্ট্রাকচার প্ল্যান ও ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) অনুযায়ী নড়াইল খালের পর ত্রিমোহনী খালের শেষ বালু নদীসংলগ্ন এলাকায় ১ হাজার ১০৮ একর ওয়াটার রিটেনশান পন্ড (জলাধার) এলাকা রয়েছে। নড়াই খালের পানিগুলো ত্রিমোহনী খাল হয়ে এই জলাধারে গিয়ে জমা হয়। বালু নদীতে যখন ভাটা থাকে তখন এই পানিগুলো প্রবাহিত হয়ে নদীতে চলে যায়। এজন্য এই খালটিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন মেয়র আনিসুল হক।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, নব্বই দশকের দিকে যে মাস্টার প্ল্যান তৈরি হয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। সবশেষ ২০১৫ সালের দিকেও আরেকটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হয়।

 

"