পীরগঞ্জে গাইড বই কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে অভিভাবকদের। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতি সহায়ক পাঠ্যপুস্তকের (গাইড বই) তালিকা করে উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে ধরিয়ে দেয় বছরের শুরুতেই। এরপর সেই তালিকা অনুযায়ী গাইড বই কিনতে বাধ্য করা হয় তাদের। তবে এই অভিযোগ নাবচ করেছেন মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাউসার আলম।

বর্তমান সরকার বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ব্যাকরণ, বিজ্ঞানসহ পাঠ্যসূচি অনুযায়ী সব ধরনের বই জানুয়ারি মাসে সরবরাহ করলেও স্কুল শিক্ষক ও কোচিং শিক্ষকদের চাপে সেই সব বইয়ের সহায়ক বই কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষক সমিতির সরবরাহ এসব গাইড বইয়ের তালিকা অনুযায়ী লাইব্রেরির নাম উল্লেখ করে দেওয়া আছে। যেখান থেকে ওইসব বই কিনতে বলা হচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

এতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে অভিভাবকদের। মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ওইসব প্রকাশনী ও লাইব্রেরির নাম বইয়ের তালিকায় সংযোজন করা হয়েছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করে। পুস্তক তালিকার নাম অনুযায়ী লাইব্রেরিগুলোতে সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাঞ্জেরি, অনুপম, লেকচার, কম্পিউটার পাবলিকেশনসহ আরো কয়েকটি গাইড বই বাজারে এসেছে। এতে ষষ্ঠ শ্রেণির এক সেট গাইড বইয়ের দাম ৬৫৫ টাকা, সপ্তম শ্রেণির ৬৭০ টাকা, অষ্টম শ্রেণির ১ হাজার টাকা, নবম শ্রেণির ৩ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি করে বলে জানান লাইব্রেরির মালিকরা। এদিকে সব শ্রেণির সব বইয়ের সেট ছাড়া পৃথকভাবে কোনো বই বিক্রি করছেন না বিক্রেতারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানায়, সে এবার জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। তাই সহায়ক বইগুলো কিনতে স্কুল থেকে বলা হয়েছে তার এক শিক্ষকের নির্দেশ মোতাবেক তাকে বইগুলো কিনতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, সহায়ক বইয়ের নামে শিক্ষার্থীদের গাইড কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব সহায়ক বই আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে কিনা, জানা নেই তার। ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া ছেলের একসেট বই কিনতে হাজারের ওপরে টাকা লাগছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ছেলেকে কিনতে বলেছে, তাই কিনে দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

আরেক অভিভাবক বলেন, এই সহায়ক বইগুলোর দামও খুব বেশি। আমরা কৃষক, বাজারে ধানের দাম কম। এক বস্তা ধান বিক্রি করে এক সেট বই হয় না। বড় সমস্যায় আছি। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, সহায়ক বইগুলো তাদের কাছে এক ধরনের বোঝা। বোর্ড বইয়ের পাশাপাশি সেগুলো পড়তে অতিরিক্ত চাপ হচ্ছে। কিন্তু স্কুলের স্যাররা গাইড বই কিনতে বলেছেন। প্রশ্নপত্র নাকি এই বইগুলো থেকেই হবে।

অনেক অভিভাবক এখনো গাইড বই কিনে দিতে পারেননি। যে কারণে তাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে শিক্ষকরা নানাভাবে বকাঝকা করছেন এমন অভিযোগও কম নয়। তবে শিক্ষকরা এ অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য শিক্ষার্থীদের ভালোর জন্যই তারা চাপ নয়, সৎ পরামর্শ দেন। শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, এ উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ১৮৮টি, এতে প্রায় ৪৫ হাজার ছাত্রছাত্রী আছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৮২টি আর এগুলোর ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ হাজার। সরকার কর্তৃক গাইড বই বিক্রি নিষিদ্ধ তবুও এ উপজেলায় শিক্ষক সমিতির ছত্রছায়ায় দেদারসে ব্যবসা চলছে। যেন দেখার কেউ নেই।

মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাউসার আলম জানান, শিক্ষার্থীরা বোর্ড বইয়ের পাশাপাশি সহায়ক বইয়ের সহযোগিতা নিলে ফলাফল ভালো করবে। তবে এসব বই শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করার কথা তিনি অস্বীকার করেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।

 

"