উইঘুর নিয়ে মুসলিম দেশগুলো চুপ কেন?

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এমনিতেই ভালো যাচ্ছে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। কিন্তু তারপরও দেশটি উইঘুর এথনিক প্রোটেকশন অ্যাক্ট পাস করেছে। অথচ জিনজিয়াংয়ে ঘটা মানবিক এ দুর্যোগের বিষয়ে চুপ রয়েছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো। কিন্তু কেন? চীনের ‘পুনঃশিক্ষাদান’ কেন্দ্রগুলোতে ১০ লাখেরও বেশি উইঘুর মুসলিমকে রাখা হয়েছে বলে ইতোমধ্যে খবর প্রকাশ পেয়েছে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়। এই ক্যাম্পগুলোকে তুলনা করা হয় আধুনিক যুগের কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প হিসেবে। শুধু বসবাসের অযোগ্য স্থান নয়, এসব মগজ দোলাই শিবিরগুলোতে উইঘুরদের নিয়মিত নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

যাদের শেষ পর্যন্ত মুক্তি দেওয়া হয়, পরিবারের ওপর কড়া নজরদারির কারণে তারা বাকি জীবনও বলতে গেলে বন্দি অবস্থাতেই কাটান। জার্মানির ফ্রাংকফুর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক সুজানে শ্র্যোটার মনে করেন, চীনের কমিউনিস্ট সরকার রাষ্ট্রীয় নীতি গ্রহণে এমন করেই নির্যাতনের পথ বেছে নেয়। জিনজিয়াংয়ে উইঘুরদের ওপর নজরদারি ও পুনঃশিক্ষার নামে কেমন নির্যাতন চালানো হয়, তা কেবলই সবাই জানতে শুরু করেছে। চীনের এমন নীতিকে আপনি কীভাবে দেখেন? ডয়েসে ভেলের এই প্রশ্ন ছিল ইসলামের ইতিহাস ও ধর্মীয় প-িত শ্র্যোটারের প্রতি।

শ্র্যোটার : চীনের সরকার খুবই কর্তৃত্বপরায়ণ এবং বিরোধী মত যেকোনো উপায়ে দমন করতে চায়। শুধু উইঘুরদের ক্ষেত্রেই নয়, উদারপন্থা এবং গণতন্ত্রের পক্ষে যারা কথা বলেন, তাদেরও একই উপায়ে দমন করা হয় চীনে। একসময় ফালুন গং নামে একটি আন্দোলন শুরু হয়েছিল, চরমভাবে তা দমন করা হয়। তিব্বতের দালাই লামার সমর্থকদের অবস্থাও আমরা জানি। ফলে উইঘুরদের ক্ষেত্রে চীন সরকার যা করছে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তা ছাড়া অনেক মুসলিম প্রধান দেশের সঙ্গে চীনের বিরাট বিরাট অর্থনৈতিক প্রকল্প ও সহযোগীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই হয়তো এ ব্যাপারে মুসলিম দেশের সরকারগুলো এখনো কড়া কথা বলছে না চীনকে।

পুনঃশিক্ষা ক্যাম্প ২০ শতকেও নানা সময়েই ব্যবহার করেছে চীন। জনগণের ওপর সরকারি মত চাপিয়ে দেওয়া এবং বিরোধীদের মনে ভয় ধরাতে কার্যকরভাবে নানা দমনমূলক পন্থা অবলম্বন করেছে দেশটির কমিউনিস্ট কর্তৃবাদীরা। এতে সব স্তরের মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে চীনা রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের কথা তো বলাই বাহুল্য।

জিনজিয়াংয়ে বেইজিংয়ের এই নীতির কারণ কী? উইঘুররা স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিল। চীনা সরকারের চোখে এটিই তাদের ওপর দমনপীড়ন চালানোর জন্য যথেষ্ট বলে মনে হয়েছিল। পাশাপাশি, জিনজিয়াংয়ে এই আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং মুসলিমদের ধর্মীয় একটি আন্দোলনও ছিল। পূর্ব তুর্কিস্তান ইসলামিক আন্দোলনকে এখন জাতিসংঘ বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও সন্ত্রাসী আন্দোলন বলে মনে করে। বেশ কয়েক বছর ধরে এই গোষ্ঠী জঙ্গি কর্মকা- চালিয়েছে। ২০১৪ সালে কুনমিং ট্রেন স্টেশনে বোমা হামলায় ৩০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যান। উইঘুরদের ব্যাপারে চীনা নীতি এসব ঘটনা দিয়ে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করা হয়। এই পদ্ধতিটি চীন সরকার বিভিন্ন বিরোধী গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে। নিপীড়ন, ভয়াবহ ভয় সৃষ্টি করা এবং বাধ্যতামূলক শ্রম শিবিরে কাজ করানো, এসব পদ্ধতির অন্যতম।

এদিকে, চীনের সরকার মনে করে এই উইঘুর বিদ্রোহীরা পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ইসলামি জঙ্গি তালেবান ও আলকায়দা এবং আইএসের সঙ্গে যুক্ত। তাই এরা চীনের রাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি। সে কারণে তাদের সুপথে আনার জন্য এবং কর্মমুখী শিক্ষার জন্য এই পুনঃপ্রশিক্ষণের কাজ চালাচ্ছে চীন। এ সরকারি কাজে নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটে না।

 

"