টয়লেট দিবসে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০২৩ সালের মধ্যে পৃথক ওয়াশরুম

প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘২০২৩ সালের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছেলেমেয়েদের জন্য আলাদা ওয়াশরুম তৈরি করবে সরকার। ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫০ শতাংশ ওয়াশরুম নির্মাণ করা হয়েছে। বাকিগুলো লক্ষ্যমাত্রার আগেই তৈরি হয়ে যাবে। শিক্ষার্থীদের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন টয়লেট নিশ্চিত করতে আমরা সফল হব।’

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পুলিশ স্টাফ কলেজ মাঠে ‘ডমেক্স’-এর উদ্যোগে বিশ্ব টয়লেট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রোগ্রাম শেষে পরিচ্ছন্নতার যুদ্ধে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে বিশ্বের বড় ‘প্রডাক্ট স্যাশে ওয়ার্ড’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মো. তাজুল ইসলাম।

মন্ত্রী বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান থাকে শিক্ষকরা। এ প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন শত শত পরিবার থেকে ছেলেমেয়েরা পড়তে আসে। প্রতিষ্ঠানে টয়লেটগুলো অপরিষ্কার হলে কী ক্ষতি হবে আর পরিষ্কার থাকলে শরীরের জন্য কী উপকারিতা রয়েছে; তা বলার দায়িত্ব শিক্ষকের। আর এ বিষয়গুলোতে তাদের সচেতন করতে পারবেন তারাই। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা সচেতন হলে প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি তাদের পরিবারকেও তারা সচেতন করতে পারবে।

তিনি বলেন, “১৯৯৭ সালে সাউথ কোরিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ ছিল। তখন কোরিয়ার সরকার জনগণের কাছে আহ্বান করেছিল সাহায্যের জন্য। সেসময় একটি মেয়ে তার বিয়ের বালা ও এনগেজমেন্টের রিং ব্যাংকে জমা দিচ্ছিলেন। তখন একজন সাংবাদিক মেয়েটিকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘এ বালা আর রিংয়ের সঙ্গে আপনার আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। এটা আপনার গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। কেন এগুলো ব্যাংকে জমা দিচ্ছেন। যদি ফেরত না পান। মেয়েটি উত্তরে বলেছিলেন, আমার দেশ যদি থাকে, তাহলে আমি এগুলো ফেরত পাব। যদি দেশ না থাকে, তাহলে বালা আর রিং-এর কোনো মূল্য নেই’ এটাই হলো জাতীয়তাবোধ, এটাই হলো দেশপ্রেম। আমি-আপনে দেশকে ভালোবাসলে দেশের উন্নতি হবেই।”

ইউনিলিভারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কেদার লেলে বলেন, ৫০ বছর থেকে ইউনিলিভার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে পণ্য দিয়ে সহযোগিতা করে আসছে। ভবিষ্যতে এর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘স্যানিটারি টয়লেট ব্যবহার করি এবং সেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সহযোগিতা করি।’ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রহমান বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তিন কক্ষবিশিষ্ট ওয়াশ ব্লক করার কাজ চলছে। যেগুলো দোতলাবিশিষ্ট প্রতিষ্ঠান, সেগুলোর নিচতলায় মেয়েদের জন্য আর দোতলায় ছেলেদের জন্য ওয়াশরুম করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩৪ হাজার স্কুলে নির্মাণ করা হয়েছে।

দেশের স্কুলগুলোর টয়লেটের পরিচ্ছনতাবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীসহ বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণ করে। তারা স্কুলের টয়লেট পরিষ্কার রাখার এবং স্বাস্থ্যসম্মত ভবিষ্যৎ গড়ার শপথ গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ওয়াটার এইডের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ইমরুল কায়েস মনিরুজ্জামান, টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও ইউটিউব কনটেন্ট ক্রিয়েটর আয়েমান সাদিক প্রমুখ।

"