চট্টগ্রামে গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণ

শিক্ষকের বাসায় যাওয়া হলো না মা-ছেলের

প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

মিনহাজুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

ছেলের হাত ধরে যাচ্ছিলেন মা জুলেখা খানম ফারজানা। দুই ছেলের মধ্যে একজনকে স্কুলে দিয়ে এসেছেন। আরেকজনকে প্রাইভেট শিক্ষকের বাসায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডের ঘটনাস্থলের ওই বাড়িটির সামনে রাস্তা অতিক্রম করার সময় কিছু বুঝার ওঠার আগেই ঘটে যায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মা ও ছেলের ওপর দেয়াল ধসে পড়লে ঘটনাস্থলেই মারা যান তারা দুজন। গতকাল সকাল ৯টায় ঘটে যাওয়া ওই দুর্ঘটনায় সাতজন নিহতের মধ্যে মধ্যে জুলেখা ফারজানা (৩০) ও তার ছেলে আতিতুর রহমানও (৮) রয়েছে। ফারজানার স্বামী আতাউর রহমান চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী। স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে পাথরঘাটা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন ফারজানা। নিহত ছেলে আতিকুর রহমান সেন্ট প্লাসিডস স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো। ছোট ছেলে আতিফুর রহমান (৫) পড়ে নার্সারিতে। নিহতের স্বামী আতাউর রহমানের বন্ধু লোকমান হোসেন জানান, বাসা থেকে ওই প্রাইভেট শিক্ষকের বাসা কাছাকাছি। তাই হেঁটে ছেলেকে নিয়ে শিক্ষকের বাসায় যান ফারজানা। কিন্তু এটাই যে তাদের শেষ যাত্রা হবে- সেটা কে জানত? গৃহশিক্ষিকা অ্যালিনা বিশ্বাস বলেন, ফারজানা ম্যাডাম প্রতিদিন দুই ছেলেকে স্কুলে আনা-নেওয়া করেন। বাসার পাশেই বড় ছেলে আতিকুরকে একজন প্রাইভেট শিক্ষকের বাসায় পড়াতে নিয়ে যেতেন। প্রতিদিনের মতো গতকাল রোববার সকালে আতিফুরকে স্কুলে দিয়ে এসে বড় ছেলে আতিকুর রহমানকে প্রাইভেট শিক্ষকের বাসায় নিয়ে যাচ্ছিলেন ওই পথ দিয়ে। পথিমধ্যেই দুর্ঘটনায় মারা যান মা-ছেলে।

পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ছেলের হাত ধরে মা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ দেয়াল ধসে পড়লে অনেকের সঙ্গে তারা দুজনও নিহত হন। চোখের পলকেই ঘটে গেল এ দুর্ঘটনা। ওষুধের দোকানের সম্মুখের রাস্তায় পড়েছিল তাদের নিথর দেহ।

পিইসির ডিউটি করা হলো না এ্যানি বড়–য়ার

প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাওয়ার জন্য বের হয়েছেন নির্দিষ্ট সময়ের আগে। পিইসি পরীক্ষার ডিউটি করবে বলে আকাশি রঙের শাড়ি পড়ে বের হয়েছেন। সকাল সকাল বের হয়েছেন পটিয়া মেহেরানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস পরীক্ষার হলে আর ডিউটি করা হলো না এ্যানি বড়–য়ার। গতকাল রোববার চট্টগ্রামের পাথরঘাটা গ্যাসলাইন বিস্ফোরণের দুর্ঘটনায় সাতজনের প্রাণহানি ঘটে। এদের মধ্যে এ্যানি বড়–য়া রয়েছেন। স্বামী বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলী। দুই সন্তানকে নিয়ে পাথরঘাটা এলাকায় বাসায় থাকতেন এ্যানি বড়–য়া। এক ছেলে এবার চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে জেএসি পরীক্ষা দিয়েছে। আরেক ছেলে নগরীতে বেসরকারি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। এখন দুই ছেলে নিয়ে কী করব বলে চমেক হাসপাতালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছেন নিহত এ্যানির স্বামী প্রকৌশলী পলাশ বড়–য়া।

তিনি আরো বলেন, ‘কোনো দিন কোতোয়ালি মোড় দিয়ে যায় না সে। আরেক সহকর্মীর সঙ্গে যাওয়ার জন্য আজকে কোতোয়ালি গেছে। এ যাওয়া যে শেষ যাওয়া জানতাম না। আমার দুই ছেলে নিয়ে কি করব। কারা দেখবে আমার ছেলেদের? কে স্কুলে নিয়ে যাবে? আমার কি হবে।’

"