ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মামলা শার্শায় বিক্ষোভ

প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

প্রাইভেট হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এবং অবহেলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। অপরদিকে, বেনাপোলের শার্শায় একই অভিযোগে দুই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় একটি ক্লিনিক বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টÑ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি প্রাইভেট হাসপাতালের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই হাসপাতালের ৩ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত বুধবার মামলা করা হয়। আজ শুক্রবার ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উত্তোলন করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার আসামিরা হচ্ছেন চিকিৎসক ডিউক চৌধুরী, অরুনেস্বর পাল অভি ও মো. শাহাদাত হোসেন রাসেল। তাদের মধ্যে চিকিৎসক ডিউক চৌধুরী শহরের মুন্সেফপাড়ার খ্রিস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালের মালিক। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে তা নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করার জন্য সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেন। এদিকে আজ শুক্রবার সকালে শহরের শেরপুর কবর থেকে দিয়ার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শহরের মুন্সেফপাড়ার নওশীন আহাম্মদ দিয়া গত ৩০ অক্টোবর খ্রিস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তার একটি কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হয়। ৪ নভেম্বর প্রচন্ড মাথাব্যথা শুরু হলে তাৎক্ষণিক তাকে আবার একই হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওইসময়ে হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার ডিউক চৌধুরী, অরুনেশ্বর পাল অভি ও মো. শাহাদাত হোসেন রাসেল ভুল চিকিৎসা এবং ভুল ইনজেকশন ও ওষুধ প্রয়োগ করেন। এতে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তা গোপন করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে দিয়ার মৃত্যু হলেও দুপুর ১টার দিকে দ্রুত তাকে ঢাকা নিয়ে যেতে বলেন। দিয়ার বাবা অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মেয়েকে নিয়ে বিকাল সাড়ে ৪টায় ঢাকা ল্যাব এইড হাসপাতালে পৌঁছলে সেখানে ডাক্তাররা দিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আরো জানান, কয়েক ঘণ্টা আগেই মৃত্যু হয়েছে দিয়ার। বেনাপোল (যশোর) : যশোরের শার্শার বাগআঁচড়ার জোহরা ক্লিনিক ও বেনাপোল বাজারের রজনী ক্লিনিকে ডাক্তারের অবহেলায় দুই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বাগআঁচড়ার জোহরা ক্লিনিকে সিজার করার সময় মাথা কেটে গিয়ে এক নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, গত বুধবার বিকালে শার্শা উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের হাসান আলীর স্ত্রী প্রসূতি রেহেনা খাতুনকে জোহরা ক্লিনিকে ভর্তি করে। তাড়াহুড়া করে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অনভিজ্ঞতাবশত প্রসূতির গর্ভের শিশু সন্তানের মাথা কেটে ফেলে ডাক্তার। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে হাসানের বড় ভাই মাসুদুর রহমান অভিযোগ করেছেন। মাসুদুর রহমান বলেন, ডাক্তার হাবিব ও তার স্ত্রী আমাদের টাকা পয়সা দিয়ে ম্যানেজ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমরা রাজি হইনি। এ ব্যাপারে জোহরা ক্লিনিকের ডাক্তার হাবিবুর রহমান বলেন, বাচ্চা তার মাতৃগর্ভে মারা যায়। অস্ত্রোপচারের সময় মারা গেছে বলে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। অপর দিকে বুধবার রাতে বেনাপোল বাজারের রজনী ক্লিনিকে সিজার বাণিজ্যের কারণে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী অপচিকিৎসার অভিযোগ এনে, ওই ক্লিনিক বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করে। বেনাপোল পৌরসভার নারায়ণপুর গ্রামের প্রসূতি মা নাজমা বেগমের সিজার করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। নাজমার বাবা আনোয়ার রহমান জানান, বুধবার সকাল ৭টায় তিনি রজনী ক্লিনিকে ভর্তি করেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষায় থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে তার মেয়ে। এ সময় তিনি মেয়েকে যশোর নিয়ে যেতে চাইলে ক্লিনিকের ম্যানেজার বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। ডাক্তার সন্ধ্যা ৭টায় এসে সিজার করেন। সিজার করতে দেরি হওয়াতে নবজাতক মারা যায়। এ ব্যাপারে বেনাপোল রজনী ক্লিনিকের ডাক্তার আসাদুজ্জামান বলেন, গর্ভবতী এ মায়ের ডায়াবেটিস ছিল। এমন রোগী সিজারে ঝুঁকি থাকে। তবে তিনি যে সন্ধ্যায় অপারেশন করবেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তা জানতেন। এখানে তার কোনো দোষ নেই।

"