ক্যানসার চিকিৎসায় ভেষজের উপকারিতা কতটুকু?

প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

অনলাইনের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রায় দেখা যায়, ভেষজ নানা উপাদান ক্যানসার নিরাময়ে ভূমিকা রাখে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এক ক্যানসার সম্মেলনে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কিছু কিছু ভেষজ উপাদানের কারণে ক্যানসার চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত হয়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, স্তন ক্যানসার শরীরে ছড়িয়ে যাওয়ার পর আদা, রসুন কিংবা হলুদ দিয়ে তৈরি ট্যাবলেট, ক্যাপসুল গ্রহণ করলে ত্বকের ঘা সারতে বেশি সময় লাগায়।

ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও সার্জন অধ্যাপক ডা. মারিয়া জোও কার্ডোসো জানান, ভেষজ থেরাপি কিংবা ক্রিম ক্যানসার নিরাময়ে কাজ করে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার মতে, যেটা নিয়ে সন্দেহ আছে এমন কোনো কিছু গ্রহণ না করাই ভালো। পর্তুগালের লিসবনের চ্যাম্পালিমাউড ক্যানসার সেন্টারের হেড ব্রেস্ট সার্জন অধ্যাপক কার্ডোসো জানান, যেকোনো ধরনের ভেষজ উপাদান গ্রহণ করার আগে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নেওয়া উচিত। তা না হলে সেটি চামড়ায় ছড়িয়ে যেতে পারে। তিনি আরো জানান, অন্যান্য ক্যানসারের তুলনায় স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে এটি বেশি ঘটে। অধ্যাপক কার্ডোসো বলেন, হরমোন থেরাপি কিংবা কেমোথেরাপি চিকিৎসা চলাকালীন ভেষজ উপাদান গ্রহণ করলে অনেক সময় ক্ষত সারতে কিংবা রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে সবুজ চিরেট্টা, রসুন, গিংকো, হর্স চেস্টনাট, হলুদ ইত্যাদি ভেষজ উপাদান রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। অধ্যাপক কার্ডোসো বলেন, ক্যানসারে আক্রান্তরা অনেক সময় বিকল্প চিকিৎসার খোঁজ করেন এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। তবে এতে ভালো হওয়ার চেয়ে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। যুক্তরাজ্যের একটি ক্যানসার গবেষণা ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, প্রচলিত ক্যানসার চিকিৎসা চলাকালীন ভেষজ চিকিৎসা নেওয়া ঠিক নয়। ওয়েসাইটটি জানিয়েছে, কেমোথেরাপি বা হরমোন থেরাপির চিকিৎসার সময় জাম্বুরা কিংবা কমলার মতো ফল বা জুস গ্রহণ করা ঠিক নয়। এতে ক্যানসারের চিকিৎসা প্রভাবিত হতে পারে। এ ওয়েবসাইটটিতেও ক্যানসার নিরাময়ে ভেষজ গ্রহণের আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। তবে অ্যাডভান্সড স্তন ক্যানসারের পঞ্চম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অধ্যাপক কার্ডোসো জানান, যোগব্যায়াম, মননশীলতা, রিকি এবং আকুপাংচারের মতো থেরাপি ক্যানসার রোগীদের জীবনযাত্রার মানের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

"