শর্ত না মেনে ইটভাটা হুমকিতে ফসলি জমি

প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

মারুফ আহমেদ, কুমিল্লা

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে শর্ত না মেনে ইটভাটা গড়ে ওঠার কারণে, হুমকির মুখে পড়েছে শতাধিক একরের ফসলি জমি। ফসল রক্ষায় শতাধিক কৃষক জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদফতর, উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করার পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় চরম হতাশ কৃষকরা। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, পরিবেশ অধিদফতর থেকে ফসলি জমির পাশে ইটভাটা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর, খোয়াইশ, গলিয়ারা, কমলপুর, দক্ষিণ আনন্দপুর গ্রামের ফসলি জমির পাশেই গড়ে উঠেছে একটি ইটভাটা। স্থানীয় লক্ষ্মীপুর গ্রামের শাহআলম, জসিম, দেলোয়ার, খেয়াইশ গ্রামের হুমায়ুন কবীর, আবদুল গণী, আনোয়ার হোসেন, মিজানুর রহমান; আনন্দপুর গ্রামের আবদুল মান্নান, দুলাল মিয়া, গিয়াস উদ্দিন প্রমুখের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, গলিয়ারা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের তিন ফসলি জমির একপাশে সম্প্রতি চালু হয়েছে রোকেয়া ব্রিকস্ নামের একটি ইটভাটা। এর তিন পাশজুড়ে রয়েছে শতাধিক একর ফসলি জমি। বন্যা বা জলাবদ্ধতা না থাকায় পুরো বছর ধরে এখানে ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হয়। ২০১৮ সালে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বালুতুপাসংলগ্ন চাঁপাপুর গ্রামের আলী আশ্রাফ নামের এক ব্যক্তি প্রথমে কিছু জমি ক্রয় করেন। পরে সেখানে ইটভাটা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। স্থানীয় লক্ষ্মীপুর, খোয়াইশ, গলিয়ারা, কমলপুর, দক্ষিণ আনন্দপুর গ্রামের শতাধিক জমির মালিক স্বাক্ষরসহ জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদফতর, কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর ইটভাটা বন্ধের লিখিত আবেদন করে। কিন্তু এসব পদক্ষেপে কোনো কাজ হয়নি। বরং ইটভাটা মালিকপক্ষের লোকজন এরই মধ্যে চুল্লি নির্মাণসহ পুরোপুরি ইটভাটা চালু করে ফেলে। এতে স্থানীয় কৃষকরা তাদের ফসলহানির আশঙ্কা করছেন।

লক্ষ্মীপুর গ্রামের আবদুর রহিম জানান, ইটভাটার চারপাশের গ্রামে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস। গ্রামের রয়েছে আম, জাম, কাঁঠাল, নারকেল, পেয়ারাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ। ইটভাটার কারণে শুধু ফসলহানিই নয়, পাশাপাশি ফলের উৎপাদনও কমে যাবে। এ ছাড়া গো-খাদ্যেরও সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জমির মালিকরা। প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগের পর ইটভাটার মালিকপক্ষের লোকজন জমির মালিক পক্ষের লোকজনদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলেও কৃষকরা জানান। কৃষকরা জানান, শর্ত অনুযায়ী কোনোভাবেই ফসলি জমির পাশে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। অনুর্বর বা পরিত্যক্ত জমিতে ইটভাটা নির্মাণের নির্দেশনা রয়েছে। অথচ চারপাশ জুড়ে তিন ফসলি জমির মধ্যে ইটভাটা নির্মাণের অনুমতি পরিবেশ অধিদফতর কীভাবে দিল, সেটা কোনোভাবেই বোধগম্য হচ্ছে না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুমিল্লা পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক কামরুজ্জামান সরকার বলেন, এই ইটভাটা যদি জনস্বার্থের পরিপন্থী বা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তাহলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেব।

"