ডায়াবেটিস দিবসে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

সচেতনতাই পারে সুস্থ জীবন গড়তে

প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি এডিস মশার আক্রমণে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। মানুষ সচেতন হয়ে ডেঙ্গুকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে, পাশাপাশি সময়মতো মশার ওষুধ ¯স্প্রে করার মাধ্যমেও কাজ হয়েছে। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনতে শুধু সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়, সাধারণ মানুষের সচেতনতাই পারে ডায়াবেটিসমুক্ত সুস্থ জীবন গড়তে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতালের অডিটরিয়ামে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘আসুন, পরিবারকে ডায়াবেটিস মুক্ত রাখি’- এ স্লোগানকে সামনে রেখে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খান, মহাসচিব মো. সাইফ উদ্দিন, বারডেম জেনারেল হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ডায়াবেটলজি বিভাগের ইউনিট প্রধান অধ্যাপক ফারুক পাঠান ও বারডেম হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক জাফর আহমেদ লতিফ। মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ডায়াবেটিস বিষয়ে সবাইকে সচেতন করতে হলে জাতীয় কারিকুলাম বোর্ডে এ বিষয়ে যুক্ত করতে হবে। গরুর রচনা পড়ার মতো এখন আর সেই দিন নেই। ট্রাফিক সিগন্যাল, সড়ক দুর্ঘটনা, মশাবাহিত রোগসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এসব বিষয় পাঠ্যবইয়ে থাকলে শিক্ষার্থীরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক, পরিবারসহ সবাই সচেতন হওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামের মেম্বার, ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সব সুবিধা গ্রামে পৌঁছে। এদের মাধ্যমে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতন হওয়ার জন্য কিছু নির্দেশনা আপনারা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেন। এছাড়া মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ উপাসনালয়গুলোতেও ডায়াবেটিস সম্পর্কে আলোচনা হওয়া দরকার। সবাই একযোগে সচেতন হলে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আমাদের চিন্তা হচ্ছে দ্রুত কীভাবে অর্থশালী হওয়া যায়। সব সময় টাকা আর টাকা। এ নিয়ে আমরা সারাক্ষণ চিন্তা করি। অথচ আমরা নিজের বা পরিবারের সদস্যদের শরীর নিয়ে একটু ভাবি না। হাঁটাচলা বা শরীর চর্চা করি না, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হই না। সবাই আলাদা আলাদা চিন্তা করি। তাই আমাদের শরীরে নানা রোগ বাসা বাঁধে। তাই আমি বলব, সবাই সচেতন হই, সুন্দর জীবন গড়ি। সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খান বলেন, ডায়াবেটিস হওয়ার জন্য শুধু ফাস্ট ফুড কারণ নয়, তেলে ভাজা পিঠাগুলো দায়ী। স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর উদ্দেশ্য তিনি বলেন, এয়ারপোর্ট, রেলওয়ে স্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনালে হেলথ কর্নার চালু করা প্রয়োজন। যাত্রীরা তাদের প্রয়োজনমতো শরীর চেকআপ করিয়ে নিতে পারে। আর ডায়াবেটিস থাকলে প্রাথমিক ট্রিটমেন্ট করে নিতে পারবেন।

"