চট্টগ্রামে ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগে দূষিত রক্তের প্রয়োজন নেই

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগে দূষিত রক্তের প্রয়োজন নেই। দূষিত রক্ত ফেলে দিয়ে বিশুদ্ধ রক্তের সঞ্চালন করতে হবে। যারা অন্তঃকলহ করবে, অপকর্ম করবে, দুর্নীতি করবে তাদের এ দলে স্থান হবে না, গুটিকয়েক খারাপ লোকের জন্য গোটা আওয়ামী লীগ বদনামের ভাগিদার হবে না।

গতকাল বুধবার চট্টগ্রামে শাহ আমানত সংযোগ সড়কের কালামিয়া বাজারস্থ কে বি কনভেনশন সেন্টারে আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় তিনি এই কথা বলেন। চট্টগ্রাম মহানগর, দক্ষিণ ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ যৌথভাবে এ স্মরণসভার আয়োজন করে।

তিনি বলেন, যারা কলহবাজ, দুর্নীতিবাজ, ভূমিদস্যু, অপকর্মকারী তাদের অপকর্মের দায় দল নেবে না। খারাপ লোকের জন্য দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। একটা খারাপ কাজ অনেকগুলো ভাল কাজকে ম্লান করে দেয়। অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযান চলমান রয়েছে। পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, যারা রাজনীতিকে মানি মেকিং মেশিন মনে করে, টাকা দিয়ে যারা পদ বেচাকেনার রাজনীতিতে বিশ্বাসী, তাদের কাছ থেকে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মতো ব্যক্তিরা থাকতেন অনেক দূরে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে বিভিন্ন উন্নয়ন হচ্ছে। দশটা উন্নয়ন ম্লান হয়ে যাবে যদি একটা খারাপ আচরণ হয়। আমরা পরিবর্তন চাই, কিন্তু সেই পরিবর্তন চাই না যে পরিবর্তন আওয়ামী লীগকে আদর্শের শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে যখন দল বিপর্যস্ত তখন আখতারুজ্জামান বাবু দলের হাল ধরেছিলেন। তৎকালীন শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সারা দেশে আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠা করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।

স্মরণসভায় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহীবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, আখতারুজ্জামান একটি প্রতিষ্ঠান। ’৭৫ পরবর্তী সময়ে যখন আওয়ামী লীগ আস্থা সংকটে ভুগছিল, নেতারা ক্ষমতার লোভে দল ছেড়েছিল তখন তিনি পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ১/১১ এর সময়ে বাবা (মহিউদ্দিন চৌধুরী) যখন গ্রেফতার হন, তিনি আমাকে লন্ডনে ডেকে নিয়ে বলেন, এর চেয়ে কঠিন দুঃসময় আমরা পার করেছি। কোনো সাহায্য সহযোগিতা প্রয়োজন হলে আমাকে জানাবে।

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী প্রমুখ।

"