বজরা শাহি মসজিদ

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নোয়াখালী প্রতিনিধি

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় দৃষ্টিনন্দন অনেক মসজিদ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ৩০০ বছরের পুরোনো ‘বজরা শাহি মসজিদ’।

মসজিদটি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা গ্রামে অবস্থিত। মোগল আমলে আঠারোশ’ শতাব্দীতে অর্থ্যাৎ প্রায় ৩০০ বছর আগে এটি নির্মিত হয়। অতি সুন্দর এ মসজিদ নোয়াখালীর মাইজদীর সবচেয়ে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর একটি। মোগল সম্রাট মুহাম্মদ শাহের রাজত্বকালে ১৭৪১-৪২ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটি নির্মাণ করেন আমান উল্লাহ।

১৯১১ থেকে ১৯২৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে বজরা জমিদার খানবাহাদুর আলী আহমদ ও খানবাহাদুর মুজির উদ্দিন আহমদ মসজিদটি মেরামত করেছিলেন এবং সিরামিকের মোজাইক দিয়ে সাজিয়েছিলেন। বাংলাদেশে ইসলাম ধর্ম প্রচারে রয়েছে এ মসজিদের ঐতিহাসিক অবদান। দিল্লির মোগল সম্রাটরা অবিভক্ত ভারতবর্ষে ৩০০ বছরের বেশি সময় রাজত্ব করেন। এ দীর্ঘ সময়ে মোগল সম্রাট এবং তাদের উচ্চপদের আমলারা বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ইমারত ও মসজিদ নির্মাণ করেন যা আজও স্থাপত্যশিল্পের বিরল ও উজ্জ্বল নির্দশন। এগুলোর মধ্যে বজরা শাহি মসজিদ একটি।

২৯ নভেম্বর ১৯৯৮ থেকে বাংলাদেশ প্রতœতত্ত্ব বিভাগ বজরা শাহি মসজিদের ঐতিহ্য রক্ষা এবং দুর্লভ নিদর্শন সংরক্ষণের জন্য কাজ করেছে। মসজিদটি বর্তমানে ভালো অবস্থায় সংরক্ষিত এবং এটি প্রতœতত্ত্ব বিভাগের সুরক্ষিত স্থানগুলোর তালিকাতেও রয়েছে।

মসজিদটি নোয়াখালী মাইজদী শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তরে সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা গ্রামে প্রধান সড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত।

নোয়াখালী জেলা সদর মাইজদী থেকে সোনাইমুড়ীগামী যে কোনো লোকাল বাস সার্ভিস বা সিএনজি অটো-রিকশা দিয়ে বজরা হাসপাতালের সামনে নামতে হবে। তারপর রিকশা বা পায়ে হেঁটে ২০০ গজ পশ্চিমে গেলে বজরা শাহি মসজিদে পৌঁছা যাবে।

"