পলিথিনে সয়লাব রোহিঙ্গা শিবির

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

উখিয়া প্রতিনিধি

উখিয়ার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ রোহিঙ্গা শিবির এবং সংলগ্ন হাটবাজার অস্বাভাবিকহারে বেড়ে গেছে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এসব অপচনশীল দ্রব্যে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলেছে জনজীবন ও জীববৈচিত্র্য।

উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান শপিং মল, কাঁচাবাজার, মাছবাজার বিশেষ করে রোহিঙ্গা শিবিরের অভ্যন্তরে গড়ে উঠা হাটবাজারে পলিথিনের ব্যবহার আরো বেশি। উখিয়া সদর ছাড়াও কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী, পালংখালীবাজারসহ আশপাশের দোকানপাটে পলিথিন ব্যাগেই পণ্য বহন করা হয়।

ফলে মাটি হারাচ্ছে তার উর্বরতা ও বন্ধ হচ্ছে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। বাতাস ও পানি দূষিত হচ্ছে। সেইসঙ্গে ছড়াচ্ছে বিভিন্ন ক্ষতিকর রোগ জীবাণু। পরিবেশ অধিদফতরের সূত্রমতে, ১৯৮২ সালের প্রথম দিকে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রথম পলিথিনের বাজারজাত ও ব্যবহার পর্ব শুরু হয়। সহজে পরিবহনযোগ্য ও স্বল্পমূল্যের কারণে এ দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠীর কাছে পলিথিনের ব্যবহার দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠে। ব্যাপক চাহিদা এবং যত্রতত্র ব্যবহারে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনছে। বিশেষ করে ড্রেন, ডোবা, পুকুর, নালা, খালসহ বিভিন্ন জলাশয়ে পলিথিন জমা হবার কারণে ওইসব স্থানে জলের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। যার দরুন মশা-মাছির প্রজনন বৃদ্ধিসহ পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি করে।

পরিবেশ অধিদফতর ২০০২ সালে বাংলাদেশে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয়, প্রদর্শন, মজুদ ও বিতরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছুই হয় না। সরকারি তথ্যমতে, ২০১০ সালে পলিথিনের পরিবর্তে পাটজাত ব্যাগ ব্যবহারের আইন পাস করা হয়।

আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে পলিথিনের ব্যবহার অনেকটা কমানো সম্ভব হলেও, ফের আগের মতোই চলছে পলিথিনের ব্যবহার। সরকারের পরিবেশ অধিদফতরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৯৩ সালে সারা দেশে প্রতিদিন ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার হতো। ২০১৩ সালে এর ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৩ মিলিয়নে বর্তমানে তার দ্বিগুণ এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এ দেশের জনস্বাস্থ্যে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অপেক্ষা করছে মারাত্মক বিপর্যয়।

এ বিষয়ে পরিকল্পিত উখিয়া চাইয়ের আহ্বায়ক সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ বলেন, পলিথিন যেমন নষ্ট করছে মাটির উর্বরতা তেমনি আমাদের পয়ঃনিষ্কাসন ব্যবস্থাও নষ্ট হচ্ছে দিন দিন। পলিথিনের কারনে গাছ তার জীবনীশক্তি হারাচ্ছে। তাই পলিথিনের উৎপাদন বিপণনকে কঠোরভাবে দমন করা দরকার। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে এই ব্যবসায় পুনরায় ফিরে এসেছে। এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে।

"