শীতের সবজিতে এখনো অস্বস্তি

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমলেও অস্বস্তি আছে শীতের আগাম সবজিতে। পেঁয়াজের ঝাঁজ সামলাতে নাভিশ্বাসের মধ্যেই বেড়েছে ভোজ্য তেলের দাম। তেল বিক্রেতারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজার ও অভ্যন্তরীণ খরচ বৃদ্ধি পাওয়াই দাম বাড়ানোর কারণ। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে মসুর ডাল ও রসুনের। এ ছাড়া মাছ ও মাংস বিক্রি হচ্ছে আগের দামে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন কোম্পানির বোতলজাত সয়াবিন তেলের এক লিটারের বর্তমান সর্বোচ্চ খুচরা (এমআরপি) মূল্য ১০২ থেকে ১১০ টাকা। তবে কোম্পানিগুলো খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা লিটার দরে সয়াবিন তেল বিক্রি করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বড় বাজারের খুচরা বিক্রেতারা এমআরপির চেয়ে কম দামে তেল বিক্রি করেন। কোম্পানিগুলো দাম বাড়ালেও এমআরপিতে পরিবর্তন আসছে না। অবশ্য লিটারে তিন থেকে চার টাকা বাড়লে খুচরা বিক্রেতারাও আর ছাড় দিয়ে বিক্রি করতে পারবেন না। সব মিলিয়ে প্রভাব পড়বে মানুষের সংসারের ব্যয়ে। প্রতি ডজন লাল ডিম ১০০ থেকে ১০৫ টাকা, সাদা ৯৫ টাকা, হাঁসের ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে। সবজির দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি বিরাজ করছে নিত্যপণ্যের বাজারে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, কাপ্তানবাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট এবং মিরপুর সিটি করপোরেশন মার্কেট ঘুরে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, এবার কয়েক দফা বন্যা ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সারা বছর সবজির দাম বেশি ছিল। বর্ষায় সবজি নষ্ট হয়ে যায়। ফলে গত কয়েক মাস ধরেই সবজির দাম চড়া ছিল। কিন্তু শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। প্রকারভেদে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে নানা সবজিতে। পুরান ঢাকার কাপ্তানবাজারে প্রতি কেজি টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শিম ৬০ থেকে ৭০ টাকা আর গাজর বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। এক সপ্তাহ আগে এই বাজারে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর ৭০ থেকে ১০০ টাকা আর শিম বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। একইভাবে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা কমে পটল বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, উস্তে-ঝিঙা-ধুন্দুল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাকরোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা, শসা জাত ও মানভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুরলতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া আকারভেদে প্রতি পিস বাঁধাকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, ফুলকপি ২৫ থেকে ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৪০ থেকে ৬০ টাকা, জালি কুমড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে।

কমেছে কাঁচামরিচের দামও। খুচরা বাজারে ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে কাঁচামরিচ। সবজির দাম প্রসঙ্গে কাপ্তানবাজারের সবজি বিক্রেতারা বলেন, শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বেড়েছে বাজারে। এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে সবজির সরবরাহ বাড়বে। এ বছর সবজি উৎপাদন ভালো হওয়ায় আগেভাগেই দাম কমে আসছে।

বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বাজারভেদে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এসব বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি আমদানি করা ভারতীয় (বড়) পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। এক সপ্তাহ আগে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ (ছোট) প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি সব ধরনের পেঁয়াজে ১০ টাকা কমেছে।

এ ছাড়া বাজারে মসলা জাতীয় অন্য পণ্য আদা-রসুনের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এসব বাজারে প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হতে দেখা গেছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। চীনা রসুন ১৫০ টাকা, দেশি আদা ১৭০ টাকা, চীনা আদা ১৬০ টাকা, প্রতি কেজি কাঁচা আদা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা।

অন্যান্য পণ্যের মধ্যে ভালোমানের মসুর ডাল ১১০ থেকে ১২০, তুরস্কের মোটা দানার মসুর ডাল ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা, চিনি ৫৬ থেকে ৬০, সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৭৭ থেকে ৮৫, আটা ২৬ থেকে ৩৬ এবং মোটা চাল ৩০ থেকে ৩৮, সরু মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল ৪৫ থেকে ৫৫ এবং মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চাল ৪২ থেকে ৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। মাছ ও মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১২০ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

"