দিল্লিতে পুলিশের বিক্ষোভ অস্বস্তিতে প্রশাসন

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

পুলিশ সদস্যদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে দিল্লি পুলিশের প্রধান কার্যালয়। গত শনিবার দিল্লির তিসহাজারি আদালতে আইনজীবীদের হাতে মার খেয়ে দিল্লি পুলিশের সদস্যরা বিক্ষোভ দেখান সদর দফতরের সামনে। তাদের ওই বিক্ষোভকে সমর্থন করেছে আইপিএসদের সংগঠন।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২ নভেম্বর। দিল্লির তিসহাজারি আদালতের পার্কিং এরিয়ায় এক আইনজীবীর গাড়িতে পুলিশের গাড়ির ধাক্কার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে আদালত এবং পাশের এলাকায়। কমপক্ষে ২০ পুলিশ সদস্য আহত হন আইনজীবীদের হামলায়Ñ এমনটাই পুলিশ সদস্যদের অভিযোগ। উত্তেজিত আইনজীবীরা ভাঙচুর চালান একের পর এক পুলিশের গাড়িতে। আগুন ধরিয়ে দেন। আইনজীবীদের পাল্টা অভিযোগ, কয়েকজন পুলিশ সদস্য এক আইনজীবীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়, পুলিশের গাড়িতে তুলে ব্যাপক মারধরও করে। ওই ঘটনার পর থেকেই দিল্লির অন্যান্য আদালতে কর্মবিরতি শুরু করেন আইনজীবীরা।

পরে দিল্লির সাকেত এবং করকরডুমা আদালতে আইনজীবীদের হাতে পুলিশের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। সোমবারই একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসে, যেখানে দেখা যায়, মোটরবাইক আরোহী এক পুলিশ সদস্যকে রাস্তায় আইনজীবীরা এলোপাতাড়ি মারধর করছেন। কোনো মতে বাইক ঘুরিয়ে পালিয়ে যান ওই পুলিশ সদস্য। পুলিশের ওপর একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে করকরডুমা আদালতেও। দিল্লি পুলিশের নিচুতলার সদস্যদের অভিযোগ, পরপর উর্দির ওপর আক্রমণ নেমে আসার পরও কোনো ব্যবস্থা নেননি দিল্লি পুলিশের কর্মকর্তারা। অভিযোগ, বাহিনীর সদস্যদের পাশে থাকার পরিবর্তে, নীরব দর্শকই থেকেছে তাদের উঁচুতলা।

এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আসতে থাকে তিসহাজারি আদালতের একের পর এক ভিডিও ফুটেজ। এ ধরনের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই, সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়। বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে এবং এ বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে দোষারোপ করাও শুরু করেন।

ওই ঘটনায় প্রবল ক্ষুব্ধ পুলিশ সদস্যরা গতকাল মঙ্গলবার সকালে দাঁড়িয়ে পড়েন দিল্লি পুলিশের সদর দফতরের সামনে। তাদের হাতে ছিল রক্ষকদের বাঁচান, ‘হাউ ইজ দ্য জোশ : লো স্যার’। সেøাগান উঠেছে, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস, সিপি সাহাব বাহার আও’। ক্ষুব্ধ পুলিশ সদস্যদের শান্ত করতে বেরিয়ে আসেন দিল্লি পুলিশের কমিশনার অমূল্য পট্টনায়ক। বিক্ষোভরত পুলিশ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

"