কমলগঞ্জে ঝাড়ুশিল্প, পুঁজি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

সালাহ্উদ্দিন শুভ, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ঘরের কাজের পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের নারী-পুরুষরা বাড়তি আয়ের জন্য তৈরি করছেন ফুল ও শলাঝাড়–। রেমা ফুল ও নারিকেল শলা দিয়ে তৈরি ফুল ও শলার ঝাড়–র চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। গরিব পরিবারের নারী-পুরুষরা ঘরে বসে টাকা উপার্জনের এই পন্থা বেছে নিয়েছে। তবে দরকারি পুঁজি ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে দরিদ্র এই শিল্প উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিনের এই কুটিরশিল্পকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে পারছেন না। জীবিকার সন্ধান হিসেবে বাড়ি বাড়ি ফুল, শলাঝাড়– ও চুনা ব্রাশ তৈরির শিল্প গড়ে তুলেছেন তারা। মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে একমাত্র কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নে বাঘমারা গ্রামে এই শিল্পটি গড়ে উঠছে। জানা গেছে ঝাড়– তৈরি শিল্পীরা নানা সমস্যায় জর্জরিত।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার বাঘমারা গ্রামের দরিদ্র পরিবারের নারী, পুরুষরা কাজের ফাঁকে ফুল ও শলাঝাড়– তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এলাকায় প্রচারবিমুখ এই শিল্পটি তাদের বাপ-দাদার আমলের ঐতিহ্যকেই ধারণ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। প্রায় শতাধিক পরিবার এই পেশায় সম্পৃক্ত। এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ঝাড়– বিভিন্ন স্থানে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। এই শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে অধিকাংশরাই ভিটেমাটি ছাড়া। নেই কোনো জমিজমা। তারা শিল্পকে আঁকড়ে ধরে রাখলেও পুঁজির অভাবে শিল্পের উন্নতি ঘটাতে পারছেন না। গ্রামের বয়োবৃদ্ধ শিল্পকারক খলিল মিয়া বলেন, জন্মের পর থেকে আমি ফুল ও নারিকেল শলার ঝাড়– তৈরি করে বিক্রি করছি। সঙ্গে স্ত্রী ও সন্তানরা সহায়তা করছে। হবিগঞ্জের মিরপুর, বাহুবল, তেলিয়াপাড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নারিকেল শলা ও রেমা ফুল সংগ্রহ করি। এরপর দুই, তিনজন মিলে দিনে গড়ে ২০০ পিস ঝাড়– তৈরি করলে সবকিছু বাদ দিয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়। এই আয় থেকে তিন মেয়ে বিয়ে দিয়ে কোনো মতে এখন সংসার চালাই। খলিল মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, আমরার ভিটেমাটি ছাড়া আর কোনো জমি নেই। এই কাজ করার মতো পুঁজিও নেই। ঋণের জন্য বিভিন্ন জনের কাছে গেছি। ব্যাংক থেকে কম লাভে ঋণ পাইলে আরো বেশি কাজ করা যেত।

নারিকেল শলার ঝাড়– তৈরির কারখানায় ঝাড়– বাঁধাইয়ের টিন হিসেবে দুধের পট, কাঠের টুকরো ও লোহা ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলো দিয়ে দ্রুত তৈরি হচ্ছে এসব ঝাড়–। গ্রামের অনেকেই ক্ষুদ্র এই শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তা দানিস মিয়া বলেন, আগে বাবা এই কাজ করতেন। এখন ৪ বছর ধরে তিনি এই কাজ করছেন। তবে পুঁজি না থাকায় কষ্ট হচ্ছে। যেখানে লাখ টাকার প্রয়োজন সেখানে মাত্র ১৫ হাজার টাকা ব্যাংক ঋণ নিয়ে কোনোমতে ধারদেনা করে এই শিল্পকে ধরে রেখেছি। নিজের রোজ ধরে হিসাব করলে দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় হয়।

ঝাড়– প্রস্তুতকারীদের দাবি সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পাওয়া গেলে এই শিল্পের ব্যাপক প্রসার লাভ করবে।

কমলগঞ্জের ক্ষুদ্রশিল্প উদ্যোক্তা সংগঠক আহমদ সিরাজ বলেন, মনিপুরীরা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করলেও সম্ভাবনাময় এসব বাঙালি শিল্প উদ্যোক্তারা সেই সব সুবিধা পাচ্ছেন না। ক্লাস্টার প্রোগ্রামের মাধ্যমে যে প্রক্রিয়ায় মনিপুরীদের ঋণ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে, ঠিক সে প্রক্রিয়ায় বাঙালি এসব শিল্প উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়া হলে ক্ষুদ্রশিল্প বিকাশের পথ প্রশস্ত হবে এবং এক সময়ে কমলগঞ্জে ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসার লাভ করবে।

"