বন্ধুরা হত্যা করতে চেয়েছিল বরিশালের ছাত্র ইমনকে

সংজ্ঞাহীন অবস্থায় বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি

বন্ধুদের সঙ্গে মোটরবাইকে চড়ে পূজামন্ডপে ঘুরতে গিয়ে মারধরের শিকার হয় বাবুগঞ্জ উপজেলার ইমাম হোসেন ইমন (১৪)। সে নবম শ্রেণির ছাত্র। এখন সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। গতকাল বুধবার পর্যন্ত তার জ্ঞান ফিরেনি। বন্ধুরা এই স্কুলছাত্রকে চলন্ত মোটরবাইক থেকে ফেলে হত্যার করতে চেয়েছিল বলে মামলা করেছেন তার বাবা। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে বাবুগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন স্কুলছাত্র ইমনের বাবা নাসির উদ্দিন ব্যাপারী। এরপর পুলিশ সোহেল হাওলাদারকে গ্রেফতার করেছে। সে জেল হাজতে রয়েছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের নাসির উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে জাহপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ইমাম হোসেন ইমনকে গত ৫ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে পূজা দেখার নাম করে একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে নুরুন নবীন মেবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যায়। এ সময় নবীনের আরো ৩ সহযোগী ঠাকুর মল্লিক গ্রামের জাহাঙ্গীরের ছেলে হাসান ইসলামপুর গ্রামের আমির হোসেন হাওলাদারের ছেলে সোহেল চরহোগলপাতিয়া গ্রামের ফারুক আকনের ছেলে মুন্না একত্রে বাড়ি থেকে বের হয়।

ইমনের বাবা মামলার বাদী নাসির উদ্দিন জানান, ওই দিন রাতে বন্ধুরা বিভিন্ন পূজামন্ডপ ঘুরে বেড়ানোর এক পর্যায়ে বন্ধুদের সঙ্গে ইমনের মতপার্থক্য হলে তাকে চলন্ত মোটরবাইক থেকে ফলে হত্যার চেষ্টা করে নুরুন নবী, সোহেল, হাসান ও মুন্না। এক পর্যায়ে আহত স্কুলছাত্র ইমনকে নুরুন নবীর বাড়িতে একটি ঘরে অটকে রেখে হত্যার জন্য দ্বিতীয় দফায় নির্যাতন করে। পরদিন ৬ অক্টোবর দুপুর দেড়টার দিকে ইমনকে আটক রাখার খবর পেয়ে অচেতন অবস্থায় নবীনদের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

বাবুগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, মোটরবাইকে করে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া ইমনের বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নিয়েছি। এর ভিত্তিতে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"