এবার জোরেশোরে মাঠে নামার ঘোষণা

খেরোখাতায় প্রাপ্তিশূন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের

প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

হিসাবের খেরোখাতায় প্রাপ্তি শূন্য। প্রতিষ্ঠার এক বছরে কয়েকবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি। তবে এবার জোরেশোরে মাঠ গরম রাখার চিন্তাভাবনা চলছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে চ্যালেঞ্জ জানাতে গড়ে উঠা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। নতুন করে সরকারবিরোধী আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে জোটটি।

শুরুতেই অবশ্য এই ঐক্যে ফাটল ধরে যখন অনেকটা নাটকীয়ভাবে বেরিয়ে আসে বদরুদোজ্জা চৌধুরীর বিকল্পধারা। আর নির্বাচনে ভরাডুবির পর কর্মকান্ড ঝিমিয়ে পড়ার ধুয়ো তুলে একরকম চিঠি দিয়েই ঐক্য থেকে সরে দাঁড়ান কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। গত এক বছরে ঐক্যফ্রন্টের কর্মকান্ড নিয়ে সমালোচনা থাকলেও নেতাদের অবশ্য দাবি তাদের এখনই ব্যর্থ বলা যাবে না।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলছেন, বিফল বা ব্যর্থ বলা যাবে না, কারণ ঐক্যফ্রন্ট হওয়ার পরে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে সাড়া আমরা পেয়েছিলাম তা অভূতপূর্ব সাড়া ছিল। এমনটা আমি আমার রাজনীতির জীবনে কখনো দেখিনি। তবে গণআন্দোলন গড়ার ক্ষেত্রে আমরা আরো দৃঢ় হতে পারতাম কিনা অথবা জনগণকে আরো বেশি সংগঠিত করা সম্ভব ছিল কিনা তা নিয়ে একটা বিতর্ক রয়ে গেছে।

এই জোটের সবচেয়ে বড় দল বিএনপি। তাদের দাবি, এত কিছুর পরেও জনগণ তাদের সঙ্গে আছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, উনি যা চাইবেন তাই হবে এটাতো হতে পারে না। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে বিরোধীদল কিন্তু কিছুই হারায়নি বরঞ্চ আওয়ামী লীগ সব হারিয়েছে। এই অবক্ষয় কতক্ষণ মানুষ মেনে নেবে। মানুষ রাস্তায় নামবে। এটা এখন শুধু সময়ের ব্যাপার।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সামনের দিনগুলোতে আন্দোলন সংগ্রামে জনগণের সম্পৃক্ততা আরো বাড়ানো হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ সেলিম বলেন, এরা অতীতে ভ্রান্ত রাজনীতি করেছে, আর এ কারণেই এখন তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। এখনো ভ্রান্ত রাজনীতি করছে, কথা তারা খুবই সুন্দর বলেন কিন্তু কাজে নেই কিছুই। আর তাই মানুষের এদের ওপর কোনো আস্থা নেই। তাই এদের অর্জনও শূন্য।

তবে দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ১৮ অক্টোবরে মহাসমাবেশের ঘোষণা দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এক বছর পূর্ণ হলো গত রোববার। এই বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে তিন লক্ষ্য নিয়ে চাঙা হচ্ছে জোটটি। লক্ষ্যগুলো হলো-সরকারবিরোধী দলগুলোকে নিয়ে ‘অর্থপূর্ণ’ আন্দোলন গড়ে তোলা, ‘বৃহত্তর কর্মসূচি’ নিয়ে রাজপথে নামা এবং জোটের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ। সেই লক্ষ্যে জোটনেতারা কাজও করে যাচ্ছেন। তবে, জোটের কোনো কোনো নেতা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠে থাকাটা বড় চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএনপিকে বড় ‘ফ্যাক্টর’ হিসেবে দেখছেন তারা।

জোট নেতারা বলছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনকে সামনে রেখে গঠিত হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জোটগতভাবে নির্বাচনেও অংশ নেয় জোটটি। কিন্তু নির্বাচনে বড় ধরনের ফল বিপর্যয়ের পর জোট নিয়ে বিএনপির মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। ফলে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে যাওয়া বন্ধ করে দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এরপর জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে গণফোরামের থেকে নির্বাচিত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর শপথ গ্রহণ ও তাকে জোট থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তী সময়ে দলটির আরেক সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানও শপথ নেন। এরপর কামাল হোসেনের নীরবতাকে ঘিরে শরিকদের মধ্যে রহস্যের সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ দলীয় সিদ্ধান্তে বিএনপির এমপিদের শপথ নেওয়ার মধ্যদিয়ে ফ্রন্টের শরিকদের মধ্যে মনোমালিন্য বাড়তে থাকতে। এক পর্যায়ে কর্মসূচিহীন নিষ্ক্রিয় পড়ে জোট এবং বিভিন্ন অভিযোগে জোট ত্যাগ করেন কাদের সিদ্দিকী। তবে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বর্ষপূর্তি ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থতিতে সামনে রেখে তৎপর হয় জোট। ওই ধারা অব্যাহত রাখতে কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে। ডিসেম্বর বড় ধরনের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা সরকারবিরোধী এই জোটের। তবে বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পরিকল্পনা চলছে জোটে।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘নির্বাচনের পর জোটের শরিকদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে, সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্যে দিয়ে এই বিভেদ প্রকট আকার ধারণ করে। তবে সেটা এখন অনেকটা কেটে গেছে। এখন আবারও জোটের কার্যক্রম ?শুরু হয়েছে। বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১৩ অক্টোবর আলোচনা সভা ও শোক র‌্যালি করছি আমরা।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, আগামীতে সরকারবিরোধী দলগুলোকে নিয়ে আরো বৃহত্তর কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা রয়েছে ঐক্যফ্রন্টের। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। জোটের পরিধি বাড়ানোর চিন্তা রয়েছে।

"