আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ৫ জঙ্গি আটক

পাবনায় ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ১৩ সদস্য কারাগারে

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনায় গোপন বৈঠক চলাকালে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ১৩ নারী সদস্যসহ মাদরাসার অধ্যক্ষকে আটক করেছে পুলিশ। গত রোববার রাতে পাবনা শহরের মনসুরাবাদ আবাসিক এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে গতকাল সোমবার বিকালে আটকদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই দিন বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহের একটি দল অভিযান চালিয়ে ৫ যুবককে আটক করে। র‌্যাবের দাবি, আটক যুবকরা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সক্রিয় সদস্য।

পাবনা সদর থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ জানান, মনসুরাবাদ আবাসিক এলাকার ৫নং সড়কের ১১৯নং বাড়ির মালিক সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়ি কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আনোয়ার হোসেন। দ্বিতল এই বাড়ির নিচতলায় ইসলামী নারী সংস্থার সদস্যদের আস্তানা ছিল। এখান থেকে মেয়েদের সংগঠিত করে নাশকতার ছক করা হচ্ছিল। গোপনে খবর পেয়ে পুলিশ রোববার রাত ১০টার দিকে বাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং সেখান থেকে বৈঠকরত অবস্থায় ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ১৩ নারী সদস্য এবং বাড়ির মালিক অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেনকে আটক করে। আস্তানা থেকে বিপুলসংখ্যক জিহাদি বই, জঙ্গি সদস্য সংগ্রহের বিপুল পরিমাণ ফরম, চাঁদা আদায়ের রসিদ ও আদায়কৃত অর্থ, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ধরনের সাংগঠনিক বই, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন ধরনের লিফলেট উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে। আটকদের অধিকাংশই পাবনা অ্যাডওয়ার্ড কলেজের ছাত্রী। তাদের দুপুরের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এরা হলো বাড়ির মালিক সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়ি কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসেন, সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানার গোপালপুর গ্রামের আব্দুল মজিদের মেয়ে মোছা. রাবেয়া খাতুন, কলাগাছি গ্রামের আতাউল রহমানের মেয়ে আরিফা খাতুন, সিরাজগঞ্জ সদর থানার আলোকদিয়া গ্রামের আব্দুল মালেকের মেয়ে তানজিলা খাতুন, বগুড়া জেলার গাবতলী থানার বাইগুনি মধ্যপাড়া গ্রামের আনসার আলীর মেয়ে মোছা. লুনা খাতুন, বগুড়া সদর থানার নাড়লী গ্রামের শামসুজ্জামানের মেয়ে শারসিন (শামচী), পাবনার সাঁথিয়া থানার গৌড়িগ্রামের আমিন উদ্দিনের মেয়ে তাসলিমা খাতুন সুরাইয়া, চাটমোহর থানার বোয়াইলমারী গ্রামের মুসাব আলীর মেয়ে মাহফুজা, কাশিনাথপুর নতুনপাড়া গ্রামের সোহরাব মোল্যার মেয়ে নাজমা খাতুন, পাবনা সদর থানার বলরামপুর গ্রামের আহম্মদ প্রামাণিকের মেয়ে মোছা. লাকি, আটঘরিয়া থানার হাঁপানিয়া গ্রামের বাকি বিল্যাহর মেয়ে শামীমা নাসরিন, নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া থানার গোপালপুর দেবনগর গ্রামের মৃত মহসিন আলীর মেয়ে ফাতেমা, লালপুর থানার বাউড়া গ্রামের জমসেদ আলীর মেয়ে আসমাউল হোসনা, ঢাকার কাফরুল থানার মিরপুর-১৩ এলাকার আলাউদ্দিনের স্ত্রী মোছা. রুমা খাতুন।

এদিকে র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহের একটি দল বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ৫ যুবককে আটক করেছে। আটকরা হলো পাবনা সাঁথিয়া উপজেলার রাঙামাটিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল ছাত্তারের ছেলে রুহুল আমিন (২৩), বেড়া উপজেলার ঘাটিগাড়া গ্রামের ওয়াদুদ আলীর ছেলে ওয়াজেদ আলী (৩০), একই উপজেলার সম্ভুপুর গ্রামের আব্দুস ছামাদের ছেলে আবুল কালাম আজাদ (৩০), ছোট পায়রা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ (২১), একই গ্রামের সিদ্দিক আলীর ছেলে মিজান হোসেন (২৩)।

র‌্যাব-১৪-এর বরাত দিয়ে পাবনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, এরা সবাই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সক্রিয় সদস্য। আটকের পর তাদের বেড়া থানায় হস্তান্তর এবং মামলা করা হয়েছে।

"