মালয়েশিয়ায় সম্রাটের ‘সেকেন্ড হোম’

ক্যাসিনোকাণ্ডে আরো ৪২ হোতার সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

মালয়েশিয়ায় দ্বিতীয় নিবাস গড়ার কর্মসূচি বা মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোমে (এমএম২এইচ) অংশ নিয়েছেন যুবলীগ ঢাকা দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। সেখানে তার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বিভিন্ন ব্যাংকে লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া ক্যাসিনো-কা-ে আরো ৪২ গডফাদারের দেশ-বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত এক সপ্তাহে গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে ক্যাসিনো-কা-ে জড়িতদের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য পায় দুদক।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে এ তথ্যের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। ফলে অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা হতে পারে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে। দুদকের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার আমপাং তেয়ারাকুন্ডে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কয়েকটি ব্যাংকে সম্রাট যে লেনদেন করেছেন সে তথ্যও এখন দুদকের হাতে। দুদকের অনুসন্ধানের সময় পুলিশের ইমিগ্রেশন বিভাগ, বিএফআইইউ, পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস, সেকেন্ড হোমের এজেন্ট, মালয়েশিয়ান হাইকমিশন অনুমোদিত বিভিন্ন ভিসা এজেন্ট থেকে পাওয়া তথ্য, পাসপোর্টের কপি, সেকেন্ড হোম প্রকল্পে অনুমোদনপ্রাপ্তদের অনুমোদনপত্রের কপি ও ব্যাংক হিসাব বিবরণী যাচাই-বাছাইয়ে সম্রাটের মালয়েশিয়ায় অর্থ পাচার ও ফ্ল্যাট থাকার তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে জানা গেছে। ২০০২ সালে চালু হওয়া এমএম২এইচ হলো এমন একটি কর্মসূচি যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে অন্য দেশের একজন নাগরিক মালয়েশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি বসবাস ও অন্যান্য সুবিধা পান। বিভিন্ন দেশ থেকে এ কর্মসূচিতে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৪২ হাজার ২৭১ জন অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা ৪ হাজার ১৩৫ জন। ক্যাসিনো বন্ধে অভিযান শুরুর পর নাম আসতে থাকে যুবলীগসহ অনেক নেতার। গ্রেফতার করা হয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটসহ বেশ কয়েকজনকে। অভিযানকালে ক্যাসিনোয় জড়িতদের বাসায় মিলে বিপুল পরিমাণ অর্থ। এরই মধ্যে ক্যাসিনোয় জড়িতদের অবৈধ সম্পদের অভিযোগে অনুসন্ধানে নামে দুদক। গেল সপ্তাহে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক হয় র‌্যাব এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট-বিএফআইইউর মহাপরিচালকের সঙ্গে। ক্যাসিনোয় জড়িতদের বিষয়ে দুদককে বেশকিছু তথ্য দেয় র‌্যাব এবং বাংলাদেশ ব্যাংক।

দুর্নীতি দমন কমিশন সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত জানান, এরই মধ্যে ৪৩ জনের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের সম্পদের বিবরণী নেওয়া হচ্ছে।

অনুসন্ধানে সম্রাটের মালয়েশিয়ার আমপাং তেয়ারাকুন্ডতে ফ্ল্যাটের তথ্য পেয়েছে দুদক। মালয়েশিয়া সরকারের সেকেন্ড হোম প্রকল্পের আওতায় ফ্ল্যাট কিনেন সম্রাট। এছাড়া মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ব্যাংকেও তার লেনদেনের তথ্য রয়েছে।

সম্রাট ছাড়াও ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত ৪২ জনের তথ্য এখন দুদকের অনুসন্ধান টেবিলে। ক্যাসিনোর পাশাপাশি তারা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন উপায়ে অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দুদকের কাছে অভিযোগ রয়েছে। মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত জানান, সম্পদের আয়ের উৎস যদি সঠিকভাবে না পাওয়া যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলা এবং মানিলন্ডারিংয়ের মামলা হতে পারে। ক্যাসিনোর মাধ্যমে যারা অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তাদের শিগগিরই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদক সচিব।

প্রসঙ্গত, উন্নয়নশীল দেশ থেকে অর্থ পাচার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য মতে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ৯১১ কোটি ডলার বা প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকার বেশি পাচার হয়েছে। পাচার হওয়া এ অর্থ দিয়ে বাংলাদেশে দুটি পদ্মা সেতু তৈরি করা সম্ভব। একই সময়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার কোটি ডলারের বেশি। অর্থাৎ বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যিক লেনদেনের গড়ে ১০ শতাংশের বেশি অর্থ পাচার হয়।

"