প্লাস্টিকনাশক ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কারে আশার আলো

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। নদী ও সমুদ্রের তলায়, এমনকি মাটির গভীর স্তরেও জমে আছে প্লাস্টিক। অপচনশীল এই বস্তুটি নিয়ে উদ্বেগের কোনো অন্ত নেই পরিবেশবাদীদের। এই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে সুখবর নিয়ে এসেছে ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডার শিব নাদর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। তারা প্লাস্টিক নাশক ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করে দেখিয়েছেন আশার আলো।

পৃথিবীকে প্লাস্টিকমুক্ত করতে যখন বিশ্বজুড়ে নানা প্রচার চলছে। প্লাস্টিকের তৈরি পণ্যের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে নানা প্রচারণায় রয়েছেন পরিবেশবাদীরা। এরই মধ্যে সুখবর দিলেন ভারতীয় গবেষকরা। তাদের দাবি, গ্রেটার নয়ডার জলাভূমি থেকে ‘প্লাস্টিক-নাশক’ দুটি ব্যাকটেরিয়া স্ট্রেন খুঁজে পেয়েছেন তারা, যা প্লাস্টিক-বর্জ্য সাফ করার পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা হয়ে উঠতে পারে। ব্যাকটেরিয়ার স্ট্রেন দুটি পলিস্টাইরিনকে পচিয়ে (ডিকম্পোজ) মাটিতে মিশিয়ে দিতে পারে। এরা হলো ‘এগজিগুয়োব্যাকটিরিয়াম সিবিরিকাম স্ট্রেন ডিআর-১১’ এবং ‘এগজিগুয়োব্যাকটিরিয়াম আনডি স্ট্রেন ডিআর-১৪’।

আনুমানিক হিসাব বলছে, ভারতে প্রতি বছর ১ কোটি ৬৫ লাখ টন প্লাস্টিক-বর্জ্য তৈরি হয়। ‘অল ইন্ডিয়া প্লাস্টিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন’ জানাচ্ছে, প্লাস্টিক থেকে লাখ লাখ টন পলিস্টাইরিন তৈরি হয়, যা সহজে পচনশীল নয়। পলিস্টাইরিনের ভারী আণবিক ওজন এবং দীর্ঘ শৃঙ্খলের মতো পলিমার আকার। এই কারণে এরা সহজে ভেঙে গিয়ে পরিবেশে মিশে যায় না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে পলিস্টাইরিন জাতীয় পণ্য তৈরি ও ব্যবহার করা হলেও ‘ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট’ বা বর্জ্য সাফ করতে গিয়ে তাই সমস্যায় পড়তে হয়। গবেষকরা উদাহরণ দিয়ে জানাচ্ছেন, একটি প্লাস্টিকের কাঁটা চামচ পচে-গলে মাটিতে মিশতে অন্তত সাড়ে ৪৫০ বছর সময় লাগে।

শিব নাদর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাপত্রটি ‘রয়েল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রি (আরএসসি) অ্যাডভান্সেস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্কুল অব ন্যাচরাল সায়েন্স’-এর জীববিজ্ঞান বিভাগের গবেষক রিচা প্রিয়দর্শিনী এই বিজ্ঞানী দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর প্রিয়দর্শিনী বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় পাওয়া তথ্য থেকে স্পষ্ট, প্লাস্টিকের রাসায়নিক গঠন ভাঙতে সক্ষম এগজিগুয়োব্যাকিটিরিয়াম। ফলে প্লাস্টিক জাতীয় পণ্য থেকে পরিবেশদূষণ রুখতে ভবিষ্যতে এদের ব্যবহার করা যেতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘জলাজমিগুলোতে অণুজীব বৈচিত্র্য সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। যদিও ওই এলাকাগুলোকে নিয়ে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা হয়েছে সবচেয়ে কম। কিন্তু ভালো ব্যাকটেরিয়া খোঁজার জন্য এই সব জলাজমিই আদর্শ জায়গা।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রূপমঞ্জরী ঘোষের কথায়, ‘ক্যাম্পাসের মধ্যেই জলাজমি থেকে নমুনা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছিল। কিন্তু তা থেকে যে তথ্য হাতে এসেছে, সেটা যুগান্তকারী আবিষ্কার। প্লাস্টিক-বধে সমাধান দিচ্ছে প্রকৃতিই।’

 

"