ধরপাকড় : ৯ দিনে সৌদি থেকে ৪৪১ কর্মী ফেরত

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

সৌদি আরব থেকে গত দুই দিনে আরো ১০৫ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাতে সৌদি এয়ারলাইনস এসভি ৮০৪ ফ্লাইটে ৪২ জন এবং গতকাল বুধবার এসভি ৮০২ ফ্লাইটে ৬৩ জন দেশে ফিরেন। এ নিয়ে সৌদি আরব থেকে ধরপাকড়ের মুখে চলতি মাসেই দেশে ফিরলেন ৪৪১ জন কর্মী। এর আগে ৩ অক্টোবর ও ৪ অক্টোবর দুই দিনের ব্যবধানে ২৫০ কর্মী সেদেশ থেকে ফিরেন। এরপর ৫ অক্টোবর আরো ৮৬ জন সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসেন। বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন এবং প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ফেরত আসা কর্মীদের বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে খাবার-পানিসহ নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর জন্য জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়। ফিরে আসা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সৌদি আরবে বেশ কিছুদিন ধ?রে ধরপাকড়ের শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। সেই অভিযানে বাদ

যাচ্ছে না বৈধ আকামাধারীরাও (কাজের অনুমতিপত্র)। ফেরত অনেক কর্মীর অভিযোগ। কর্মস্থল থেকে বাসস্থানে ফেরার পথে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। সে সময় নিয়োগকর্তাকে ফোন করা হলেও তারা দায়িত্ব নিচ্ছেন না। বরং আকামা থাকা সত্ত্বেও কর্মীদের ডিপোর্টেশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আবার দীর্ঘদিন অবৈধভাবে থাকার কারণেও অনে?ককে আটক ক?রে ফেরত পাঠা?নো হচ্ছে।

পিরোজপুরের শামীম দাবি করেন, মাত্র দেড় মাস আগে সাড়ে ৩ লাখ টাকা খরচ করে তিনি সৌদি আরব গিয়েছিলেন। কিন্তু আকামা থাকা সত্ত্বেও তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

আরেক কর্মী মুন্সীগঞ্জের মহিউদ্দিন জানান, তিনি ১০ বছর ধরে সৌদি আরবে ছিলেন। আকামাসহ বৈধভাবেই ছিলেন। দুই দিন আগে এশার নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার জন্য রুম থেকে বের হলে সৌদি ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তিনি আকামা দেখালেও তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। আটকের কারণ জানতে চাইলে তাকে মারধর করা হয়।

দেশে ফেরা কর্মীদের অভিযোগ-তাদের আকামা থাকা সত্ত্বেও তাদের ধরে সবজি, খেজুর ও পানি বিক্রিসহ ভিক্ষা করার মতো মিথ্যা অভিযোগ এনে দেশে পাঠানো হচ্ছে।

ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ‘চলতি মাসেই দেশে ফিরলেন ৪৪১ কর্মী। এ বছর ১০ থেকে ১১ হাজার কর্মীকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

 

"