১১ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি

মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ কারো কাছে জিম্মি থাকতে পারে না

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত রোববার রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দেশের ১১ বিশিষ্ট নাগরিক এক বিবৃতিতে বলেন, কিছু উচ্ছৃঙ্খল আদর্শহীন যুব ও ছাত্র সংগঠনের হাতে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ জিম্মি থাকতে পারে না। তারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ছাত্র, যুব ও দলীয় কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। আদর্শের ভিত্তিতে দল পরিচালনা না করে পেশিশক্তিনির্ভর দল গঠন ও পরিচালনা কী ভয়াবহ পরিণতি আনতে পারে তা সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বিবৃতিটি পাঠান। বিবৃতিদাতারা হলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, সৈয়দ হাসান ইমাম, হাসান আজিজুল হক, অনুপম সেন, সরোয়ার আলী, রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, মামুনুর রশীদ, মফিদুল হক ও নাসির উদ্দীন ইউসুফ। ১১ বিশিষ্ট নাগরিক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এক গভীর উৎকণ্ঠা ও অসীম বেদনায় নিমজ্জিত আজ পুরো জাতি। বুয়েট শিক্ষায়তনে সহপাঠী আবরার ফাহাদকে একদল ছাত্রলীগ কর্মী কর্তৃক নির্মমভাবে হত্যা, সাম্প্রতিক সময়ে যুবলীগ নামক যুব সংগঠনের সামাজিক অনাচার, মাদক ব্যবসা ও দুর্নীতির অবিশ্বাস্য নিদর্শন আমাদের দারুণভাবে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠিত ছাত্র ও যুব সংগঠনের এ বিপথগামিতা আমাদের হতাশ ও ব্যথিত করে।’

বিশিষ্টজনরা বলেন, আবরার হত্যার শুধু দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাঝে আমাদের এ ভয়াবহ সংকট নিরসন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি না। আমরা মনে করি মানবিক মূল্যবোধের যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ আজ জাতিকে গ্রাস করেছে তা থেকে মুক্তি পেতে হলে সরকার, শাসক দল ও সব রাজনৈতিক দলকে নিজ নিজ দল, অঙ্গ সংগঠন, সরকার ও প্রশাসনের অভ্যন্তরে মানবিক মূল্যবোধ ও সহনশীল-সংস্কৃতির বীজ উপ্ত করতে হবে। বিশেষ করে সরকার ও সরকারি দলকে এ কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় জাতি এক ভয়াবহ দুর্যোগের মুখোমুখি হবে। কিছু উচ্ছৃঙ্খল আদর্শহীন যুব ও ছাত্র সংগঠনের হাতে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ জিম্মি থাকতে পারে না।

বিবৃতিদাতারা বলেন, আমরা দ্রুত এই সংকট থেকে জাতি ও দেশকে রক্ষা করতে সরকারের আশু পদক্ষেপ প্রত্যাশা করি। একই সঙ্গে জনগণকে সচেতন ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাই।

 

"