বাগমারার সেই প্রকৌশলীর দুর্নীতির তদন্ত শুরু

কাজ না করেই উন্নয়ন প্রকল্পের ৫৮ লাখ টাকার হরিলুট

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

বিশেষ প্রতিবেদক, রাজশাহী

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত করছে মন্ত্রণালয়। এলজিইডির রাজশাহী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে চার সদস্যের এক কমিটিকে অভিযোগের তদন্ত করতে দেওয়া হয়েছে। কমিটি এরই মধ্যে ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলেছে।

এর আগে সম্প্রতি নাটোরের মৌসুমী ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মমতাজ আলী, রাজশাহীর হোসেন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রশিদ ও বাগমারার ঠিকাদার ওয়ারেস আলী বাবু এবং নজরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন ঠিকাদার উপজেলা প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, দুর্ব্যবহার, ঘুষ দাবি ও অসৌজন্যমূলক আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিভাগীয় কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, জেলা প্রশাসক এবং এলজিইডির রাজশাহী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। এ বিষয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ‘প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ, কাজ না করেই বাগমারায় উন্নয়ন প্রকল্পের ৫৮ লাখ টাকার হরিলুট শিরোনামে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর অভিযোগগুলো তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। গঠন করে দেওয়া হয় তদন্ত কমিটি। যে কমিটির সদস্যরা তদন্তের অংশ হিসেবে গত সোমবার (৭ অক্টোবর) বাগমারা উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্ত দলে ছিলেন এলজিইডির রাজশাহী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম, নুহুল ইসলাম, মোজাহার হোসেন ও জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সামিউল হক। তদন্তকালে ঠিকাদাররা উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।

এর আগে ঠিকাদারদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছিল, বাগমারায় প্রায় ৫৮ লাখ টাকার কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। কয়েকজন ঠিকাদারের যোগসাজশে প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন তার দফতরের কয়েকজন কর্মকর্তা নিয়ে এ অনিয়ম করেছেন। অভিযোগে আরো বলা হয়, প্রায় সাত বছর ধরে বাগমারায় কর্মরত সানোয়ার হোসেন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। ঘুষ না দিলে তিনি ঠিকাদারদের হয়রানি করেন। তিনি সরকারি বেতনভুক্ত তিনজন কর্মচারীকে নিজের বাসায় রেখে কাজ করান।

অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, ঘুষ না দিলে ঠিকাদারদের কাজ দেন না প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন। দরপত্রে অংশগ্রহণ করে ঠিকাদাররা কাজ পেলেও তিনি ঘুষের টাকার জন্য কার্যাদেশ আটকে রাখেন। তার চাহিদামতো ঘুষ দিয়ে কাজ করতে গিয়ে ঠিকাদাররা প্রতিনিয়ত লোকসানের মুখে পড়েন। তাই স্থানীয় কোনো ঠিকাদারের সঙ্গেই তার ভালো সম্পর্ক নেই। এর আগে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ছিলেন সানোয়ার হোসেন। সেখানেও ঘুষের রামরাজত্ব কায়েম করেছিলেন তিনি। ঘুষ আদায়কে কেন্দ্র করে ঠিকাদারদের হাতে লাঞ্ছিতও হয়েছিলেন। শেষে তাকে শাস্তিমূলকভাবে বাগমারায় বদলি করা হয়। কিন্তু এখানেও সাত বছর ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন নানা অনিয়ম।

তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুহুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক তদন্ত শুরু করেছি। এরই মধ্যে বাগমারায় গিয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলেছি। তদন্তে যা পেয়েছি, তা প্রতিবেদন আকারে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় যে ধরনের নির্দেশনা দেবে, সে মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘সব অভিযোগ মিথ্যা। আশা করি আগের ন্যায় এবারও তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হব।’

 

"