পদার্থে নোবেল ৩ বিজ্ঞানীর

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

মহাবিশ্বের গঠন ও ক্রমবিকাশের পাঠে নতুন আলোর সঞ্চার করার পাশাপাশি সৌরজগতের বাইরে সূর্যের মতো নক্ষত্র ঘিরে আবর্তনরত প্রথম গ্রহ আবিষ্কারের স্বীকৃতিতে এ বছর পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস গতকাল মঙ্গলবার এই পুরস্কারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জেমস পিবলস, সুইজারল্যান্ডের মিশেল মায়োর ও যুক্তরাজ্যের দিদিয়ের কুলোজের নাম ঘোষণা করে।

পুরস্কারের ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনারের (১১ লাখ ডলার) মধ্যে পিবলস পাবেন অর্ধেক। আর বাকি অর্ধেক মায়োর ও কেলো ভাগ করে নেবেন। আগামী ১০ ডিসেম্বর সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

মহাকাশ নিয়ে গবেষণায় অবদান রাখায় এ বছর পদার্থবিজ্ঞানে তিনজন বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পেলেন। ফিজিক্যাল কসমোলোজি বিষয়ে গবেষণায় এই পুরস্কার পান জেমস পিবলস এবং সূর্যের মতো নক্ষত্রকে পরিভ্রমণরত এক্সোপ্লানেটের আবিষ্কারের জন্য পুরস্কার পান মিশেল মেয়র এবং দিদিয়ের কুলোজ। লেজারের শক্তিকে বহু গুণে বাড়িয়ে তোলার যুগান্তকারী কৌশল উদ্ভাবনের জন্য গত বছর আর্থার আশকিন, জেরার্ড মুরু ও ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেয়েছিলেন।

বরাবরের মতোই চিকিৎসা বিভাগের পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে সোমবার চলতি বছরের নোবেল মৌসুম শুরু হয়। প্রাণীর কোষ কীভাবে অক্সিজেনের প্রাপ্যতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়, সেই রহস্যের কিনারা করে এবার যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়াম জি কায়েলিন, যুক্তরাজ্যের স্যার পিটার জে র‌্যাটক্লিফ ও যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেগ এল সেমেনজার এবার চিকিৎসায় নোবেল পেয়েছেন। আজ বুধবার রসায়নে চলতি বছরের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণার পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার আসবে সাহিত্যের নোবেল ঘোষণা।

এক জুরির স্বামীর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মধ্যে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি গত বছর সাহিত্যের নোবেল পুরস্কার স্থগিত করে। এবার তাই একসঙ্গে ২০১৮ ও ২০১৯ সালের নোবেলবিজয়ীদের নাম জানানো হবে। এরপর শুক্রবার শান্তি এবং আগামী ১৪ অক্টোবর অর্থনীতিতে এবারের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

১৮৯৫ সালের নভেম্বর মাসে আলফ্রেড নোবেল নিজের মোট উপার্জনের ৯৪% (৩ কোটি সুইডিশ ক্রোনার) দিয়ে তার উইলের মাধ্যমে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন করেন। এই বিপুল অর্থ দিয়েই শুরু হয় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান। ১৯৬৮-তে তালিকায় যুক্ত হয় অর্থনীতি। পুরস্কার ঘোষণার আগেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন আলফ্রেড নোবেল। আইনসভার অনুমোদন শেষে তার উইল অনুযায়ী নোবেল ফাউন্ডেশন গঠিত হয়। তাদের ওপর দায়িত্ব বর্তায় আলফ্রেড নোবেলের রেখে যাওয়া অর্থের সার্বিক তত্ত্বাবধান করা এবং নোবেল পুরস্কারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা করা। বিজয়ী নির্বাচনের দায়িত্ব সুইডিশ অ্যাকাডেমি আর নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটিকে ভাগ করে দেওয়া হয়।

 

"