দুই ভাষাসংগ্রামী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

মেহেরপুর প্রতিনিধি

মেহেরপুরের ভাষাসংগ্রামী নজির হোসেন বিশ্বাস (৯০) ও ইসমাইল হোসেন (৮৬) আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। গত সোমবার ভাষাসংগ্রামী নজির বিশ্বাসকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। গত রোববার রাতে দ্বিতীয়বারের মতো স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন নজির বিশ্বাস। গতকাল মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের জেনারেল ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় এই ভাষাসংগ্রামীকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ রোগীর মতোই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তাকে। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত আরেক ভাষাসংগ্রামী ইসমাইল হোসেনও বাকরুদ্ধ।

ইসমাইল হোসেন নিজ বাড়িতে বিছানাগত। দুজনেই বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির ডাকা ধর্মঘট চলাকালে ঢাকায় ছাত্রদের মিছিলে গুলি করা হয়। এ খবর পেয়ে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে মেহেরপুরের ছাত্র-জনতা। ২২ ফেব্রুয়ারি আবুল কালামের সভাপতিত্বে কালাচাঁদ মেমোরিয়াল হলের সামনে এক সমাবেশ হয়। সমাবেশে সরকারের নীতিনির্ধারণের সমালোচনা ও রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে জোরালো বক্তব্য রাখা হয়। মুন্সী সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে মেহেরপুর উচ্চ ইংরেজি মডেল স্কুলের মুসলিম হোস্টেলের ছাত্ররা পোস্টারিং, পিকেটিং করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫৩ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি পালন করতে গিয়ে পুলিশের নির্যাতনসহ কারাবরণ করতে হয় তাদের। ১৯৫৫ সালে মেহেরপুর উচ্চ ইংরেজি মডেল স্কুলের ছাত্ররা একুশ ফেব্রুয়ারি ক্লাস থেকে বেরিয়ে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে মিছিল নিয়ে শহরে বের হয়। শিক্ষকরা শত বাধা ও ভয়ভীতি দেখিয়েও ২১ উদ্যাপন বন্ধ করতে পারেনি। শিক্ষকদের আদেশ অমান্য করে একুশ পালনের অপরাধে ইসমাইল ও নজির হোসেন বিশ্বাসসহ সাতজন ছাত্রকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে জামিনে মুক্তি পেলেও স্কুল কমিটির সিদ্ধান্তে তাদের ফোর্স টিসি দেওয়া হয়। সে সময় ইসমাইল হোসেন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। নজির হোসেন বিশ্বাস ছিলেন ৮ম শ্রেণির ছাত্র। নজির হোসেন বিশ্বাস সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন।

রোববার রাতে ২য়বারের মতো স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে গতকাল সোমবার তাকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তিনি ভাষা আন্দোলনের অগ্রগামী সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার কারণে ১৯৭১ সালে তার বাবাকে পাকিস্তানি বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মেহেরপুর সরকারি কলেজের পেছন থেকে তার বাবার লাশ উদ্ধার করা হয়। এত কিছুর পরে ভাষাসংগ্রামী হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পেয়েও তাদের একটাই সান্ত¡না বাংলা ভাষা আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ইসমাইল হোসেন বর্তমানে মেহেরপুর শহরের টিঅ্যান্ডটি পাড়ায় বসবাস করছেন।

 

"