দুর্গামণ্ডপে আজান ও স্বর্ণমন্দির, ভারতে বিতর্কের ঝড়

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

সম্প্রীতির বাংলায় পুজোর থিম, আমরা এক, একা নই। আর তা তুলে ধরতেই দুর্গাম-পের পরিকল্পনায় মন্দির-মসজিদ-গির্জার স্থান। পাশাপাশি হিন্দু মন্ত্র উচ্চারণের সঙ্গেই মণ্ডপে চলেছে, আজান ও প্রার্থনা। আর এখানেই বিপত্তি! দুর্গামণ্ডপে আজান চালানো হয়েছে, এই অভিযোগ ভাইরাল হতেই হই চই। থানায় পুজো উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পর্যন্ত দায়ের হয়েছে। বেলেঘাটা ৩৩ পল্লীবাসী এই ধর্মনিরপেক্ষ থিম নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভাইরাল ম-পে আজানের ভিডিও। আর তা ভাইরাল হতেই ক্লাবকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। বেলেঘাটা ৩৩ পল্লী ক্লাবের মোট ১০ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন আইনজীবী শান্তনু সিংহ। বয়ানে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ থেকে প্রাপ্ত ভিডিও দুর্গাম-পে আজান দেখে তার ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত পেয়েছে বলে জানিয়েছেন। এদিকে, বেলেঘাটা ৩৩ পল্লীবাসীর তরফে জানানো হয়েছে, এই নিয়ে অকারণে রাজনীতি করা হচ্ছে। সামাজিক বার্তার উদ্দেশ্যেই এই থিম ভাবা হয়েছিল। বেলেঘাটা ৩৩ পল্লী ক্লাবের থিম, আমরা এক, একা নই। আর তা বোঝাতেই গির্জা, মসজিদের প্রতীকও ব্যবহার করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের থিম সম্পর্কে জানাতে ম-পে একটি ভিডিও চালানো হচ্ছে। তবে কিছু মানুষ খ্রিস্টানদের উদ্দেশে বার্তা উপেক্ষা করে কেবল উর্দুতে দেওয়া বার্তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করছে। দুর্গাপূজায় আজান বাজানোর দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভ্রান্ত।

অন্যদিকে, মণ্ডপ তৈরি নিয়ে কলকাতার ভবানীপুরেও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। পাঞ্জাবে অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরের আদলে মণ্ডপ বানানো হয়েছে, দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে ২২ পল্লীর মণ্ডপ। ঠিক পাঞ্জাবের স্বর্ণমন্দিরের সরোবরের মতোই কৃত্রিম সরোবরও বানানো হয়েছে। এমনকী লঙ্গার ভোগও খাওয়ানো হচ্ছে। তবে এই নিয়ে এবার আপত্তি জানিয়েছে শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটি। স্বর্ণমন্দিরের নিজস্ব পবিত্রতা, মর্যাদা, ঐতিহ্য রয়েছে। যা বিশ্বের অন্য কোনো স্থানের নেই। স্বর্ণমন্দিরের নকল করে কিছু তৈরি করলে তা শিখ ভাবাবেগ ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত করে, জানিয়েছেন শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটির সভাপতি গোবিন্দ সিং লঙ্গওয়াল। ভবানীপুরের সুভাষ উদ্যানের এই পুজোর অংশ হিসেবেই এক অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার কথা ছিল বিখ্যাত পাঞ্জাবি গায়ক গুরদাস মানের। তবে স্বর্ণমন্দিরের আদলে ম-প দেখে শো বাতিল করে শহর ছেড়েছেন মান। জানিয়েছেন, বিমানে বসেই ভিডিওতে প্যান্ডেল দেখেছিলেন। এরপর কলকাতা বিমানবন্দর থেকেই ফিরে যান গুরদাস মান। এই বিষয়ে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

 

"