নিরাময় ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক

পেটে গজ রেখে সেলাইয়ের ক্ষতিপূরণ ১০ হাজার টাকা!

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের নিরাময় ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী ফারুক মিয়ার পেটে গজ রেখেই সেলাই দিয়ে দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন। উপায় না দেখে তিনি রংপুরের পারফেক্ট ক্লিনিকে ভর্তি হন। সেখানে তার দ্বিতীয় অপারেশনে পেট থেকে গজ বের করা হয়। খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। ভুক্তভোগী এই রোগী ফারুক মিয়া বলেছেন, তার জীবন শেষ করে দিয়েছিল নিরাময় ক্লিনিকের ডা. ভোলানাথ ভট্টাচার্য। তিনি এই ডাক্তার ও ক্লিনিক মালিকের বিচার চেয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ক্লিনিক মালিক এখন ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে চান।

রোগী ফারুক মিয়া লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মান্নানের চৌপতি এলাকার ফজলু হকের ছেলে। পেশায় স্থানীয় বটতলা মোড় বাজারের মুদিদোকান ব্যবসায়ী।

ফারুক মিয়া, তার পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, গত ঈদুল আজহার দেড় সপ্তাহ পরে পেটে ব্যথা অনুভব হলে লালমনিরহাট শহরের নিরাময় ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি হন মুদিদোকান ব্যবসায়ী ফারুক। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরতরা জানান, অ্যাপেন্টিসাইডের কারণে ব্যথা হচ্ছে, তাই অপারেশন করতে হবে। দায়িত্বরত চিকিৎসকদের পরামর্শে ডা. ভোলানাথ ভট্টাচার্যের তত্ত্বাবধানে অপারেশন করে চার দিনে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা বিল দিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। কয়েক দিন পর পুনরায় সমস্যা দেখা দেওয়ায় ওই ক্লিনিকের শরণাপন্ন হন ফারুক। পরে তারা ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে নতুন চিকিৎসাপত্র দেন। কিন্তু এতেও সুস্থ না হয়ে উল্টো শরীরের সমস্যা বেড়ে যায়। পরবর্তীতে ক্ষতস্থানে ইনফেকশন হলে সেখান থেকে রক্তপুঁজ বাহির হয়। পরে ফারুকের পরিবার রংপুর শহরের পারফেক্ট ক্লিনিকে ভর্তি করে। সেখানে ডা. সাহেব আলী বেশ কয়েকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হয়ে জানান, পেটে কোনো বস্তু রয়েছে। যা পুনরায় অপারেশন করে বের করতে হবে। সেই চিকিৎসকের পরামর্শে দ্বিতীয়বারের মতো অপারেশন করে বের করা হয় বিশাল আকারের একটি গজ-ব্যান্ডেজ। সেখানে ২০ দিন চিকিৎসা শেষে প্রায় ৬০ হাজার টাকা ব্যয় করে কিছুটা সুস্থ হয়ে গত শুক্রবার বাড়ি ফেরেন ফারুক মিয়া। এ বিষয়ে ক্ষতিপূরণ ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত রোববার লালমনিরহাট যান ক্ষতিগ্রস্ত রোগী ফারুক মিয়া।

বিষয়টি জানতে পেরে নিরাময় ক্লিনিকের মালিক শামছুল আলম রোগী ফারুককে কৌশলে ডেকে নিয়ে সরকারদলীয় কয়েকজন নেতার সহযোগিতায় দিনভর আপস-রফার চেষ্টা চালান। পরে তাকে ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চেষ্টা করলে কৌশলে বেরিয়ে আসেন ফারুক মিয়া।

ক্ষতিগ্রস্ত রোগী ফারুক মিয়া বলেন, এ ঘটনায় সিভিল সার্জনের কাছে অভিযোগ দিতে যাওয়ার কথা শুনে নিরাময়ের মালিক ১০ হাজার টাকা দিয়ে আপসের অপচেষ্টা করেছেন। আমি এ অপচিকিৎসার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

নিরাময় ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক মাসুদুর রহমান মাসুদ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, সাচিক লালমনিরহাট জেলার শাখার সভাপতি ডা. ভোলানাথ ভট্টাচার্য এ অপারেশন করেছিলেন। তার ভুল হতেই পারে না। জামায়াত-বিএনপির চিকিৎসক ডা. সাহেব আলী আমাদের ক্লিনিকের সুনাম ক্ষুণœ করতে এ অপপ্রচার করছেন। ওই রোগী গত রোববার ক্লিনিকে এসেছিলেন। তবে তাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. কাসেম আলী বলেন, এমন খবর তার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

"