চিকিৎসায় নোবেল পেলেন মার্কিন-ব্রিটিশ ৩ গবেষক

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

প্রাণীর কোষ কীভাবে অক্সিজেনের প্রাপ্যতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয় সেই রহস্য উদ্ঘাটন করে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের তিন গবেষক। সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট গতকাল সোমবার চিকিৎসা বিজ্ঞানে চলতি বছরের বিজয়ী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়াম জি কায়েলিন ও গ্রেগ এল সেমেনজা এবং যুক্তরাজ্যের স্যার পিটার জে র‌্যাটক্লিফ। এবার নোবেল পুরস্কারের ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার ভাগ করে নেবেন তারা। আগামী ১০ ডিসেম্বর সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। গতকাল সুইডেনের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে (বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৩টা) ফিজিওলজি বা মেডিসিন বিভাগে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস। ২০১৯ সালে প্রথম চিকিৎসায় এই পুরস্কার স্টকহোম কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট থেকে ঘোষণা করা হয়।

উইলিয়াম কায়েলিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং গ্রেগ এল সিমেনজার জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। এছাড়া স্যার পিটার জে রেটকলিফ লন্ডনের ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক। তারা তিনজনই মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেওয়া, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় হাইপোক্সিয়ার গবেষক। হাইপোক্সিয়া এমন এক অবস্থা যেখানে মানবদেহ কিংবা দেহের কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গ বা অংশের কোষ পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। এতে করে পুরো শরীর কিংবা নির্দিষ্ট অঙ্গ দুর্বল হয়ে পড়ে। গবেষকরা বের করেন যে অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ওই কোষ কীভাবে সাড়া দেয় এবং তা গ্রহণ করে।

নোবেলের ওয়েবসাইট বলছে, ২০১৯ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথভাবে যে তিনজন নোবেল পেয়েছেন, তারা শরীরে অক্সিজেনের প্রাপ্যতার সঙ্গে কোষগুলোর খাপ খাওয়া নিয়ে গবেষণা করেন। একইসঙ্গে কোষের অক্সিজেন উপলব্ধির বিষয় নিয়েও তারা বিশ্লেষণে যান। তারা আবিষ্কার করেন কোষগুলো কীভাবে এটা করে।

কোষ হচ্ছে জীবদেহের গঠন ও কাজের একক। যা প্রোটোপ্লজমে গঠিত। একইসঙ্গে পূর্ববর্তী কোষ থেকে নতুন কোষের সৃষ্টি হয়। ১৬৬৫ সালে ব্রিটিশ প্রকৌশলী রবার্ট হুক তার নিজের তৈরি অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে কোষ আবিষ্কার করেন। যার নাম দেন ‘পবষষ’।

মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে ক্যানসার চিকিৎসার নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জেমস পি অ্যালিসন এবং জাপানের তাসুকু হোনজো গত বছর চিকিৎসা বিজ্ঞানের নোবেল পান।

১৯০১ সাল থেকে নিয়মিত নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা, পদার্থ, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিÑ এ ছয়টি খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করে আন্তর্জাতিক নোবেল কমিটি। আজ মঙ্গলবার পদার্থ, আগামীকাল বুধবার রসায়নে চলতি বছরের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার আসবে সাহিত্যে নোবেল ঘোষণা।

এক জুরির স্বামীর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মধ্যে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি গত বছর সাহিত্যের নোবেল পুরস্কার স্থগিত করে। এবার তাই একসঙ্গে ২০১৮ ও ২০১৯ সালের নোবেল বিজয়ীদের নাম জানানো হবে।

এরপর শুক্রবার শান্তি এবং আগামী ১৪ অক্টোবর অর্থনীতিতে এবারের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

 

"