তিস্তায় নৌকাডুবি নিখোঁজ ৫

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় তিস্তা নদীতে একটি যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় নারী, শিশুসহ পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের বুড়িরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল রোববার বিকেল পর্যন্ত এই নিখোঁজদের কারো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নৌকায় ২০-২৫ যাত্রী ছিলেন। তারা বুড়িরহাট ঘাট থেকে পাশের একটি চরে যাচ্ছিলেন। এ সময় নৌকার মাঝি ঘাটে ছিলেন, নৌকা চালাচ্ছিলেন

এক যাত্রী। কিছুদূর নৌকাটি যাওয়ার পর স্রোতের টানে কাছেই থাকা টি বাঁধে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়। এ সময় অনেকে সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও ৪-৫ যাত্রী ঘটনাস্থলেই ডুবে যান।

মাঝি জাহেদুল জানান, সকালে ঘাটে নৌকা ভিড়িয়ে তিনি ইঞ্জিনের মবিল আনতে গেলে যাত্রীরা সবাই নৌকায় উঠে বসেন। তিনি মবিল এনে ইঞ্জিনে ঢালার পর স্থানীয় এক যাত্রী নিজেই নৌকা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। এতে মাঝি জাহেদুল আপত্তি জানালেও স্থানীয়রা যাত্রীর কাছে নৌকা দিয়ে দিতে বলেন। পরে ওই যাত্রী নৌকা নিয়ে টি বাঁধের কাছে গেলে স্রোতের টানে তিনি নৌকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে নৌকাটি টি বাঁধের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে বেশির ভাগ যাত্রীকে উদ্ধার করলেও কয়েকজন ঘটনাস্থলেই ডুবে যান।

স্থানীয় বাসিন্দা খবির উদ্দিন জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিখোঁজদের মধ্যে জান্নাতুল আঁখি (১১) ও কবিরন (৭০) নামে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে জান্নাতুল আঁখি সম্পর্কে তার ভাতিজি ও খবিরন তার খালা বলে জানান খবির উদ্দিন। নিখোঁজ অন্যদের পরিচয় পাওয়া যায়নি বলেও জানান খবিরউদ্দিন।

নৌকাডুবির ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করতে থাকেন। খবর পেয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুল হক প্রধানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পুলিশ পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নৌকাডুবির ঘটনায় কেউ নিহত হয়েছেন কি না, সেটি তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধান করছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। তবে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পাওয়া খবরে ডুবে যাওয়া নৌকাটি উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও নিখোঁজ কারো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাজারহাট থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।’

 

"