সাজানো স্কুল যেন শিশুস্বর্গ

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

শাহজাহান আলী, সুজানগর (পাবনা)

রং ও তুলির আঁচড়ে এবং জাতীয় পতাকার আদলে সাজানো হয়েছে সুজানগর উপজেলার হাটখালী ইউনিয়নের ভাদরভাগ নুরউদ্দিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রানীনগর ইউনিয়নের বস্তাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়। ভাদরভাগ নরুদ্দিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সজ্জিত বিদ্যালয় ডিজিটাল জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত হচ্ছে। রঙ তুলিতে সাজিয়ে তোলা হয়েছে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, দেওয়াল, বারান্দা, পিলার, ফ্লোর, সিঁড়িসহ বিভিন্ন স্থান। শোভা পাচ্ছে জ্ঞানভিত্তিক বাংলা স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ, ইংরেজি বর্ণ, রোমান সংখ্যা ও জ্ঞানীদের বাণী। ফ্লোরে হাতের নকশায় কারুকাজ করা হয়েছে। সিঁড়িগুলো নামতা ও ক্রমবাচক সংখ্যা দিয়ে সজ্জিত হয়েছে। বারান্দায় রয়েছে শিক্ষার্থীদের প্রতি নির্দেশনা ও নৈতিক শিক্ষামূলক বাণী। নানা রঙ, বর্ণ, সংখ্যা, বাণীতে নয়নাভিরাম সাজে সজ্জিত করে বিদ্যালয়টি শিশুদের শিক্ষার শিশুস্বর্গে রূপ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার উপকরণের ঠাসা শিশুদের হাসি আনন্দে শিক্ষা লাভ। এতে শিশুদের আগ্রহ বেড়েছে স্কুলের প্রতি। তারা স্কুলে পাঠ গ্রহণ করছে আনন্দের সঙ্গে। হাটখালী ইউনিয়নের ভাদরভাগ নুরউদ্দিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবনের অফিস রুমসহ চারটি কক্ষ রয়েছে। বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ২০০ জন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ মোট পাঁচজন দক্ষ শিক্ষক রয়েছেন। প্রাক-প্রাথমিকের শ্রেণিকক্ষটি বর্ণমালার প্যানা দিয়ে সজ্জিত। দেওয়ালে রয়েছে শিশুবান্ধব শিক্ষামূলক ছবি। শিশুদের প্রজেক্টরের মাধ্যমে পাঠদানের জন্য রয়েছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম। যাতে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে পাঠদান করা হয়। সঙ্গে রয়েছে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের কর্নার। যাতে শিক্ষার্থীদের পড়ার আসনসহ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন বই দিয়ে সাজানো। শিশুদের বিনোদনের জন্য শিশুবান্ধব বিভিন্ন খেলনা এবং চারটি নির্ধারিত কর্ণার সুসুজ্জিত আছে। বিদ্যালয়ের চার পাশ পাঠদান সংশ্লিষ্ট শিক্ষামূলক উপকরণ।

বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের হাত-মুখ ধোয়ার জন্য রয়েছে একটি আধুনিক সুন্দর ওয়াশব্লক। সঙ্গে আছে শিশুদের খাবার উপযোগী বিশুদ্ধ নিরাপদ পানি। বিদ্যালয়ে আধুনিক মানের স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা। ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে পৃথক পৃথক বাথরুম ও টয়লেট।

অভিভাবক লিটন হোসেন জানান, নতুন সাজে বিদ্যালয় দেখে সবাই প্রশংসা করছে। আমার মেয়ে সোমাইয়া তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী, এখন স্কুলে আসার জন্য আগে আগে তৈরি হয়। চতর্থ শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া জানায়, রঙ আর শিক্ষা উপকরণ দিয়ে সাজানোয় খুব ভালো লাগছে। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সুমন জানায়, এখন স্কুলে আসলে খুব ভালো লাগে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোলায়মান কবীর এ ব্যাপারে জানান, গত অর্থবছরের সিøপের প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে শিশুদের উপযোগী ও শিশুবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সুজানগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ুম জানান উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ই এ ধরনের দৃষ্টিনন্দন সাজে সজ্জিতকরণ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে উপজেলার সরকারি ১৪৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ই করা হবে। সুজানগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি শাহজাহান আলী ও সাধারণ সম্পাদক এম এ আলিম রিপন জানান বিদ্যালয়গুলো রঙ আর তুলির আঁচড়ে সাজিয়ে তোলায় ঝড়েপড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করা ও শিক্ষাবান্ধব মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়ে আসার প্রবণতা বাড়ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিৎ দেবনাথ জানান উপজেলার বিদ্যালয়গুলোকে তথ্যপ্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান উন্নতির সোপানে মাল্টিমিডিয়ার প্রজেক্টরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নতুন জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। আর এতে করে মেধা, মনন ও সৃজনশীল কর্মে শিক্ষার মান ও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন হচ্ছে।

সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি শাহীনুজ্জামান শাহীন জানান, শিশুরা যাতে প্রাথমিক স্তর থেকেই মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ে জানতে পারে এজন্য এই উপজেলার বিদ্যালয়গুলোকে জাতীয় পতাকার আদলে আরো আকর্ষণীয় করে তোলার পাশাপাশি পড়াশোনার মান আরো উন্নত করার জন্য আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

 

"