দেশের উন্নয়নে সামগ্রিক পরিকল্পনা দরকার

পরিকল্পনাবিদদের জাতীয় সম্মেলনে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানুষের জীবন-যাপনের মান এবং দেশের উন্নয়নে সামগ্রিক পরিকল্পনা করা দরকার বলে অভিমত ব্যক্ত করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। গতকাল শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘টেকসই নগর ও বসতি গড়তে পরিকল্পনা’ শীর্ষক নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিষয়ক আন্তর্জাতিক কনফারেন্স এবং পরিকল্পনাবিদদের জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। এ সম্মেলন চলবে দুই দিন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম আবুল কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান, পরিকল্পনাবিদ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ এবং বিআইপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান।

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, শুধু রাস্তাঘাট, ট্রাফিক সিগন্যাল, ভূমি ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এসব বিষয়ে পরিকল্পনা করলে সুষ্ঠু পরিকল্পনা হবে না। মানুষের জীবন যাপনে যেসব চাহিদা যেমন- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, খেলার মাঠ ও পার্ক, রাস্তাঘাটসহ সার্বিক বিষয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। যেন নাগরিকরা সব সুযোগ-সুবিধা খুব সহজে ভোগ করতে পারে।

পরিকল্পনাবিদদের উদ্দেশে মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, পূর্বাচল একটা নতুন সিটি। সেখানে এখনো সেভাবে বসতি গড়ে উঠেনি। ওই এলাকায় এখনই যানজট শুরু হয়েছে। একটা নতুন সিটির পরিকল্পনা কেন সব দিক বিবেচনা করে করা হয়নি? আপনারা বলছেন, প্রত্যেক উপজেলা ও পৌরসভায় পরিকল্পনাবিদ দরকার। তারা সেখানে গিয়ে কী করবে। আগে দেশের সামগ্রিক পরিকল্পনা করেন। কোন এলাকায় কী কী স্থাপনা হবে এবং মানুষ কীভাবে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে সেটা নিয়ে চিন্তা করেন। সামগ্রিক পরিকল্পনা করলে উপজেলা ও পৌরসভায় তাদের দেওয়া যায়। পরিকল্পনাবিদদের উদ্দেশ্য করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আপনারা একটি এলাকা নিয়ে পরিকল্পনা করেন; যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, খেলার মাঠ ও পার্ক, রাস্তাঘাট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সব ধরনের সুবিধা থাকবে। গ্রামের বৃদ্ধারা একসঙ্গে বসে নানা খোশগল্প, চলাফেরা এবং দাবা খেলাসহ সব ধরনের বিনোদন করতে পারে। শিক্ষার্থীরা হেঁটে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারে। নাগরিকরা তাদের সুবিধা হাতের কাছে পেতে পারে। এসব সুবিধা পেলে নাগরিকদের জীবন যাপনের মান উন্নয়ন হবে। একই সঙ্গে দেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছবে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. আবুল কালাম বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে পরিকল্পনা থাকা দরকার। পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য দরকার পরিকল্পনাবিদ। কিন্তু সরকার তাদের জন্য কোনো খাত সৃষ্টি না করায় তারা অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। উপজেলা, পৌরসভাগুলোর উন্নয়নে পরিকল্পনাবিদ নিয়োগ দিলে সরকারের এসডিজি বাস্তবায়ন আরো শক্তিশালী হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী ইশতেহার ‘আমার গ্রাম আমার শহর’। ২০২১, ২০৩০ ও ২০৪১ সালের যে উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা সেটাই আমার গ্রাম আমার শহর বাস্তবায়নের নমুনা। তবে উন্নয়ন হতে হবে পরিকল্পনা অনুযায়ী। প্রতিটি গ্রাম যদি ঢাকা শহরের মতো করে উন্নয়ন হয় তাহলে মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়বে।

অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, ২০৪০ সালে মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক লোক নগরে বসবাস করবে। সে লক্ষ্য ঠিক রেখে পরিকল্পনা অনুযায়ী নগরগুলো উন্নয়ন করতে হবে। একইসঙ্গে জেলা, উপজেলা ও পৌরসভাগুলো পরিকল্পনা নিয়ে উন্নয়ন কাজ করতে হবে। তাহলে দেশে প্রকৃত উন্নয়ন হবে।

"