ভয়াবহ খরার কবলে পড়বে ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা

নাসা-ইসরোর গবেষণার তথ্য

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

এবার ভারতে খরা আরো ভয়াবহ হতে পারে। খরার কবলে পড়তে পারে দেশের আরো অনেক এলাকা। এমনকি, ভারতের যে এলাকাগুলো এত দিন ‘খরাপ্রবণ’ বলে চিহ্নিত হয়নি, সেইসব অঞ্চলের মাটি এবার খরায় চৌচির হতে পারে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘নাসা’ ও ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইসরো’-এর এক যৌথ পর্যবেক্ষণে এই অশনি সংকেত দেওয়া হয়েছে। গত চার বছর ধরে গবেষণাটি চালানো হয়েছে গোটা দক্ষিণ এশিয়ায়। তার প্রথম পর্বটি সবে শেষ হয়েছে। গবেষণাপত্রটি ছাপা হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘নেচার’-এর সাম্প্রতিক সংখ্যায়।

গরমকালে দক্ষিণ এশিয়ার বায়ুম-লে যে বিপুল পরিমাণে অ্যারোসল কণা জমা হয়, গবেষণায় দেখা গিয়েছে, তার পরিমাণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গিয়েছে। ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বায়ুম-লে অ্যারোসলের স্তর গত চার বছরে এতটাই পুরু হয়ে গিয়েছে যে, তা বায়ুম-লের একেবারে নিচের স্তর ট্রপোস্ফিয়ার থেকে পৌঁছে গিয়েছে তার ওপরের স্তর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারেও। যেহেতু বিষাক্ত গ্রিনহাউস গ্যাসগুলোর নির্গমন থেকেই অ্যারোসলের জন্ম হয়, তাই অ্যারোসলের মাধ্যমে দূষণ কণা প্রচুর পরিমাণে পৌঁছে যাচ্ছে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারেও।

দেখা গিয়েছে, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে যে মেঘগুলোতে বরফ কণা মিশে থাকে, ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা খুব কম হয় বলে, সেখানেও ঢুকে পড়েছে অ্যারোসল কণা। আর তাদের পরিমাণ, ঘনত্ব ও আকার উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’-এর গত বছরেই ভয়াবহ খরার কবলে পড়েছিল পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা। নাসা, ইসরোর যৌথ গবেষণার ইঙ্গিত, বায়ুম-লে অ্যারোসলের স্তর অত্যন্ত পুরু হয়ে যাওয়ায় ভারতে এবার সেই খরা আরো ভয়াবহ হয়ে উঠতে চলেছে।

অন্যতম গবেষক, তিরুপতির ‘ন্যাশনাল অ্যাটমস্ফেরিক রিসার্চ ল্যাবরেটরির (এনএআরএল বা ‘নার্ল’) আবহাওয়া বিজ্ঞানী মুরলি বেঙ্কট রতœম বলেছেন, গবেষণার একটি ধাপ সবে শেষ হয়েছে। আমরা কাজ করেছি এশিয়ান ট্রপোপোজ অ্যারোসল লেয়ার বা অ্যাটাল নিয়ে। বেলুনের মাধ্যমে কয়েকটি সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতিকে ট্রপোস্ফিয়ার ছাড়িয়ে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার পর্যন্ত পাঠিয়ে। বেলুনের মাধ্যমে এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে এই পদ্ধতিকে ‘ব্যাটাল’ও বলা হয়।

গবেষণা জানিয়েছে, গাছপালা পোড়ানো ও কল-কারখানা থেকে বেরিয়ে আসা বিষাক্ত গ্যাস ও ধোঁয়ায় ওই অ্যারোসলস কণাদের জন্ম হয়। জীবাশ্ম জ্বালানির অতি ব্যবহারে গ্রিন হাউস গ্যাসের নির্গমন উত্তরোত্তর বেড়ে যাওয়ায় বায়ুম-লে উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গিয়েছে অ্যারোসল কণাদের পরিমাণ। তার ফলে, অ্যারোসলের স্তর ভীষণ পুরু হয়ে গিয়েছে। ট্রপোস্ফিয়ার ছাপিয়ে তা পৌঁছে গেছে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে।

পুনের ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল মেটিয়োরোলজি’ (আইআইটিএম)-এর মেঘ বিশেষজ্ঞ আর কৃষ্ণন বলেছেন, বৃষ্টির জন্য মেঘ বানানোর প্রক্রিয়ায় অ্যারোসল কণাদের যথেষ্টই ভূমিকা রয়েছে। গরম কালে ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বায়ুম-লে প্রচুর পরিমাণে জমা হয় জলীয় বাষ্প ও অ্যারোসল কণা। কিন্তু অ্যারোসল কণাদের উত্তরোত্তর বেড়ে যাওয়া পরিমাণ যদি বায়ুম-লের অনেকটা ওপরের স্তর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারেও পৌঁছে যায়, তাহলে বিপদ কিছুটা বেড়ে যায়। যেহেতু মূলত দূষণ কণা থেকেই জন্ম অ্যারোসল কণাদের, তাই স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অ্যারোসল কণাদের পরিমাণ বেড়ে গেলে, তুলনায় হালকা জলীয় বাষ্পের চেয়ে মেঘ তৈরি করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে শুরু করে অ্যারোসল কণারাই। তারাই অনেক সময় স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে জলভরা মেঘগুলোকে জমাট বাঁধতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তারই জলভরা মেঘগুলোর কেন্দ্র (নিউক্লিয়াস)-টাকে গড়ে তোলে।

গবেষক বেঙ্কট রতœম জানিয়েছেন, ৯-এর দশকের একটি গবেষণাতেই দেখা গিয়েছিল, তিব্বতের মালভূমির ১০ থেকে ১২ মাইল ওপরের বায়ুম-লের স্তরেও ঢুকে পড়েছে অ্যারোসল কণা। আমাদের ‘অ্যাটাল’ প্রকল্পে গবেষণার চৌহদ্দি আরো বাড়ানো হয়েছিল। দেখা হয়েছিল পশ্চিম চীন থেকে ভূ-মধ্যসাগরের ওপরের বায়ুম-লের বিভিন্ন স্তরও। মাপা হয়েছে ওই বিস্তীর্ণ এলাকার বায়ুম-লের বিভিন্ন স্তরে অ্যারোসল কণাদের পরিমাণ, ঘনত্ব, আকার, জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ও ওজোন গ্যাসের পরিমাণ এবং ঘনত্বও।

 

"