মাথা ন্যাড়া করে প্রতিবাদ

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাথা ন্যাড়া করে প্রতিবাদে নেমেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ জনসমক্ষে মাথা ন্যাড়া করে ফেলছেন তারা। সর্বশেষ মস্তক মু-ন করে প্রতিবাদে যোগ দেন দেশটির বিরোধী দলের নেতা হয়াং কিও-আহন। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সামনে দলের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের সামনে মাথা কামিয়ে ফেলেন কিও-আহন। সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত এক পরিবারের সদস্যকে ন্যায়বিচারবিষয়ক মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই সরকারে বিরুদ্ধে এমন অভিনব প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। চো কাক নামের ওই মন্ত্রীকে নিয়োগের প্রতিবাদে গত সপ্তাহে দুজন নারী এমপি তাদের মাথা মু-ন করেন। তাদের দাবি, নবনিযুক্ত মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে নতুবা প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনকে বরখাস্ত করতে হবে।

কাকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে নকল নথিপত্র তৈরি করে নিজের মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে স্কলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এ ছাড়া কাকের এক আত্মীয়ের বিরুদ্ধে সন্দেহজনক তহবিলে বিনিয়োগ করার অভিযোগও খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত কয়েক সপ্তাহে কাকের বাড়িতে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত শুক্রবার এক শুনানিতে চো মেয়ের ভর্তি জালিয়াতির ঘটনায় ‘তরুণ প্রজন্মের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন’। কাকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তার নিয়োগের বিষয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট মুন জানান, কেবল অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে কাউকে নিয়োগ না দেওয়াটা খারাপ উদাহরণ হয়ে যেত।

দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ন্যাড়া হওয়ার ইতিহাস বেশ পুরোনো। এটা দেশটির এক ধরনের ঐতিহ্যবাহী প্রথা। ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে দেশটি সামরিক স্বৈরশাসকের অধীনে থাকার সময় প্রতিবাদস্বরূপ নিজেদের মাথার কামিয়ে ফেলতেন বিদ্রোহীরা। গোপন ক্যামেরায় পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে হাজার হাজার নারী বিক্ষোভ করেন। সেখানে প্রতিবাদস্বরূপ মাথামু-ন করেন অনেক নারী।

 

"