ইভিএমে ভোটগ্রহণে কাটছে আইনি বাধা

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

জাতীয় সংসদসহ স্থানীয় নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) সহায়তায় নির্বিঘেœ ভোট আয়োজনে স্থানীয় নির্বাচনের সব স্তরের জন্য ইভিএম বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন কমিশন সভায় অনুমোদনের অপেক্ষায়। এর আগে আইন প্রণয়নের কাজটি সম্পন্ন করে সাংবিধানিক সংস্থাটি। এটা হলেই ইভিএমে ভোট গ্রহণের আর কোনো বাধাই থাকবে না, গৃহীত হবে না রাজনৈতিক দলের আর বিরোধিতা। ফলে ধীরে ধীরে ব্যালটের কার্যকারিতা উঠে যেতে পারে নির্বাচনী ব্যবস্থায়। এমনটাই জানিয়েছেন কমিশনের কর্মকর্তারা। খবর ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

কমিশন সূত্র মতে, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে ভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো সব সময় পরস্পরবিরোধী অবস্থানে ছিল। তবে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সর্বদা প্রযুক্তিবান্ধব ইভিএমের পক্ষে জোরালো অবস্থান জানিয়েছিল। অপরদিকে, বিএনপিসহ বেশকিছু বিরোধীদলের অবস্থান ছিল বিপরীত। নির্বাচনী আইন সংস্কারে রাজনৈতিক দলসহ সুশীল সমাজের সঙ্গে বৈঠকেও ইভিএমে ভোট আয়োজনে বিভক্তি মতামত এসেছিল। তবে নির্বাচন কমিশন অনড় থাকায় সব স্তরে ইভিএমের সহায়তায় ভোটদান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

স্থানীয় নির্বাচনের পাশাপাশি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় ৬টি আসনে ইভিএমে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ইভিএম ব্যবহারে স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে আপত্তি না থাকলেও জাতীয় সংসদে এর প্রয়োগে বিরোধী দলের ছিল ঘোর আপত্তি। এক-এগারো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন প্রথমে ইভিএমে ভোটদানের আয়োজন করে। চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের একটি ওয়ার্ডের মধ্যে দিয়ে আরো কিছু নরসিংদী পৌরসভা ও কুমিল্লা সিটিতেও প্রয়োগ ঘটায়।

পরে রকিবউদ্দীন কমিশন রাজশাহী, সিলেট, খুলনা ও বরিশাল সিটিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে গিয়ে বিপত্তিতে পড়ে। পরে তারা ইভিএম থেকে সরে আসে। পরে বর্তমান কে এম নুরুল হুদার কমিশন ইভিএমে বেশি মনোনিবেশ করে। এদিকে, নতুন ইভিএম কেনার জন্য ইসির ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পাস করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। দেড় লাখ ইভিএম কিনতে ওই প্রকল্পে ৩ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়, যা মোট প্রকল্পে ব্যয়ের ৯২ শতাংশ। আগামী ছয় বছরে তিন পর্যায়ে দেড় লাখ ইভিএম কেনার ঘোষণা দেওয়া হলেও প্রকল্পের দলিল বলছে ভিন্ন কথা। শুধু গত অর্থবছরেই ১ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল।

প্রসঙ্গত, ইসি দেড় লাখ ইভিএম কেনার জন্য ২০১৮ সালের জুলাইতে ৩ হাজার ৮২৫ কোটির প্রকল্প গ্রহণ করে। ২০২৩ সালের জুনে প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পের অর্থবছরভিত্তিক ব্যয়ের হিসাবে বলা হয়েছে, ২০১৮-১৯ সালে ১ হাজার ৯৯৮ কোটি, ২০১৯-২০ সালে ৮৫০ কোটি, ২০২০-২১ সালে ৮৫৪ কোটি, ২০২১-২২ সালে ৭৭ কোটি এবং ২০২২-২৩ সালে ৪৫ কোটি ব্যয় করা হবে।

এরই মধ্যে প্রকল্পের চাহিদানুযায়ী কয়েক হাজার ইভিএম কেনা হয়েছে। তবে সম্প্রতি নির্বাচন ভবনের নিচতলায় শর্টসার্কিট থেকে আগুনে কিছু ইভিএম নষ্ট হয়; ইসির হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ ৩ কোটি টাকার মতো। তবে এতকিছুর পরও ইভিএমের সহায়তায় নির্বিঘেœ ভোট আয়োজনে স্থানীয় নির্বাচনের সব স্তরের জন্য ইভিএম বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন কমিশন সভায় অনুমোদনসাপেক্ষে সব বাধা দূর হবে, এমনটাই প্রত্যাশা এ সংশ্লিষ্টদের।

ইভিএমের অপব্যবহার সংক্রান্ত ইউপির এক বিধিমালায় বলা হয়েছে, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতীত ইভিএম সংশ্লিষ্ট কিংবা ইভিএম এ ব্যবহৃত বা ব্যবহার করা হইবে এমন কোন ডিভাইস, সরঞ্জামাদি বা সফটওয়্যার প্রোগ্রাম বিনষ্ট করিবেন না কিংবা উহাতে বেআইনি হস্তক্ষেপ করিবেন না; ইভিএমের তথ্যভান্ডারে সংরক্ষিত তথ্যে অনধিকার প্রবেশ করিবেন না কিংবা তথ্যে বিকৃত বা বিনষ্ট করিবেন না বা অপরাধ সংঘটনে অন্য কোনো ব্যক্তিকে সহায়তা করতে পারবেন না। যদি এ অনিয়মের ব্যত্যয় ঘটে তাহলে বিধির ২৪ অনুযায়ী অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে মামলা করা না হলে পরে ওই অপরাধের জন্য মামলা করা যাবে না।’

 

"