জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি দোকানিদের মারধর

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

জবি প্রতিনিধি

অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে নিজ নিজ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার এক দিন পার হতে না হতেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসির দোকান থেকে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন জবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তরিকুল-রাসেলের অনুসারীরা। অভিযোগ করা হয়েছে, চাঁদা কম দেওয়ায় খিচুড়ির ডেগ ছিনতাই এবং দোকানিকে মারধর করেছেন তারা। চাঁদাবাজি ও মারধরÑ এ ধরনের তুঘলকি কা-ের প্রতিবাদে গতকাল সোমবার সকালে দোকানিরা দোকান বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, জবি ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির নেতারা তাদের কর্মীদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। দোকান বসানোর সময় প্রতি দোকান থেকে ১০ হাজার টাকা করে অগ্রিম নেওয়া হয়। চাঁদা প্রদানকারীরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষপদে রদবদলের ফলে ‘আমরা আবার বহাল’ ঘোষণা দিয়ে তারা এ চাঁদাবাজি শুরু করেছেন।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটি রদবদলের রাতেই ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল এবং পরদিন মিষ্টি খাওয়ার নাম করে টিএসসিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সদ্য সাবেক সভাপতি ও সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল ও তাদের কর্মীরা দোকানিদের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এতে তারা চাঁদা কম দেওয়ায় তাদের মারধর করা হয়। এক খিচুরি দোকানির ডেগ এবং ক্যাশবাক্স থেকে অর্ধ লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে নেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে জবি টিএসসির দোকানিরা গতকাল ধর্মঘট পালন করেন। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দোকানি বলেন, গত রোববার সন্ধ্যায় অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সপ্তম ব্যাচের মাসুম বিল্লাহ ও আলমগীর মুনশি, বাংলা বিভাগের সপ্তম ব্যাচের সাইফ আহমেদ লিখন, ম্যানেজমেন্ট দশম ব্যাচের সামিউল তাছাহাব শিশির এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সপ্তম ব্যাচের আবদুল্লাহ আল মামুন, ইংরেজি বিভাগ নবম ব্যাচের কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে ১২-১৫ জন টিএসসিতে এসে প্রত্যেক চা দোকান থেকে ২০ হাজার টাকা ও শিঙাড়া-সমুচার দোকান থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সময় দোকানিরা এত টাকা দিতে পারবেন না বলে জানালে দোকানদার ইমনকে পাইপ দিয়ে মারতে থাকেন তারা। এ সময় দুই দোকানি বাঁচাতে এলে তাদেরও মারধর করে সব দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা এবং সব সিগারেটের প্যাকেট ছিনিয়ে নেয়। একটি বিকাশের দোকান থেকে ছয় হাজার টাকা বিকাশ করে নিয়ে যান হামলাকারীরা।

জানা যায়, টিএসসিতে প্রায় ৯টি চায়ের দোকান, খিচুড়ির দোকান চারটি, একটি শিঙাড়া-সমুচার দোকান, একটি শুকনো খাবারের দোকান, একটি শরবতের দোকান এবং একটি বিকাশ-ফ্ল্যাক্সির দোকান রয়েছে। ক্যাম্পাস খোলা থাকলে মূল ফটকের পাশেই সকাল থেকে বসে বেশ কয়েকটি ঝালমুড়ি, চটপটির দোকানসহ হালিমের দোকান। এসব চায়ের দোকান থেকে প্রতিদিন ১৫০ টাকা করে মাসে ৪০ হাজার ৫০০, সমুচা দোকান থেকে ৫০০ টাকা করে ১৫ হাজার, খিচুড়ির দোকান থেকে ৪০০ টাকা করে ৪৮ হাজার ও রিচার্জের দোকান থেকে ১০০ টাকা করে ৩ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়। এ ছাড়া মূল ফটকের সামনের দোকান থেকেও নেওয়া হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। সে হিসেবে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা চাঁদা তুলে আসছিলেন জবি ছাত্রলীগের নেতারা।

জবি ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক কমিটির সভাপতি তরিকুল ইসলামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি প্রথমে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বলেন, টিএসসিতে যারা চাঁদাবাজি করে তারা একসময় আমার কর্মী ছিল, এখন তারা আমার কর্মী না। তবে আপনার সঙ্গে মিছিল করছিল কেনÑ এমন প্রশ্নে এড়িয়ে যান তিনি।

জবির টিএসসিতে চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ছাত্রলীগের কোনো কর্মী চাঁদাবাজি করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছাত্রলীগে কোনো চাঁদাবাজের অবস্থান নেই। আপনারা আমাদের জানান কারা চাঁদাবাজি করে, তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব। সদ্য বিলুপ্ত কমিটি নিয়ে বলেন, ছাত্রলীগে নেওয়া আগের সব সংগঠনিক সিদ্ধান্ত বলবৎ, তাই জবি ক্যাম্পাসে বিলুপ্ত কমিটির নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে পারবেন না।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল প্রতিদিনের সংবাদকে এ বিষয়ে বলেন, র‌্যাব ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে চাঁদাবাজদের একটি তালিকা চাওয়া হয়েছে। আমরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করছি। শিগগিরই আমরা এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তও নেব।

কোতোয়ালি জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার সাইফুল আলম মুজাহিদ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আমি চাঁদাবাজদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স আছি। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেব। আমার জোনে কোনো চাঁদাবাজি চলবে না।

 

 

"