এটিএম ও সিআরএম আমদানিতে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

সংসদ প্রতিবেদক

এটিএম (অটোমেটেড ট্রেলার মেশিন) ও সিআরএম (ক্যাশ রিসাইক্লিন মেশিন) আমদানিতে মূল্য কম দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকি ও হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি কোম্পানির বিরুদ্ধে। প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের নামে এ অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান জামান টেকনোলজি লিমিটেড বিভিন্ন ব্যাংকে এটিএম, সিডিএম ও সিআরএম সরবরাহ করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি এলসিতে আন্ডার ইনভয়েসিং বা ক্রয়মূল্য কম দেখানোর মাধ্যমে চীন থেকে এটিএম ও সিআরএম ক্রয় করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার পাশাপাশি হুন্ডির মাধ্যমে ওই টাকা বিদেশে পাচার করছে। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্রয়মূল্য বা ইনভয়েসে উল্লিখিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে অবৈধ উপায়ে পরিবেশ করছে, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২-এর আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

দেশীয় একটি বেসরকারি ব্যাংকের আমদানি ঋণপত্র (নং-১৯০১০০২৩) নথি থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, জামান টেকনোলজি লিমিটেড চীনের জিআরজি ব্যাংকিং ইকুইপমেন্ট (এইচ কে) কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে এ বছরের প্রথম চার মাসে দুটি চালানে ১৫টি সিআরএম ও ৩৫টি এটিএম আমদানি করেছে। ঋণপত্র অনুযায়ী প্রতিটি এটিএম ও সিআরএমের মূল্য যথাক্রমে ১ হাজর ১০০ ও ২ হাজার ৫০০ ইউএস ডলার করে পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু আমদানিকারক ও রফতানিকারক দুটি প্রতিষ্ঠানের পূর্ব যোগাযোগের রেফারেন্স লেটারে উল্লিখিত প্রোফর্মা ইনভয়েস অনুযায়ী প্রতিটি এটিএম ও সিআরএমের মূল্য যথাক্রমে ৩ হাজার ৫৭০ ও ১২ হাজার ৫৫০ ইউএস ডলার। প্রকৃত মূল্য হিসেবে ১৫টি সিআরএম ও ৩৫টি এটিএম আমদানির বিপরীতে মোট পরিশোধযোগ্য অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ লাখ ৫৮ হাজর ২০০ ইউএস ডলার বা ৩ কোটি ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। অথচ পরিশোধ করা হয়েছে ৭৬ হাজার ইউএস ডলার বা ৬৪ লাখ ২২ হাজার টাকা। প্রকৃত মূল্যের বাকি অংশ ২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা অবৈধ উপায়ে পরিশোধ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আমদানি ঋণপত্রটি ইনভয়েস করা না হলে আমদানি মূল্যের প্রায় ৩৩ শতাংশ বা এক কোটি এক লাখ টাকা রাজস্ব পেত সরকার। কিন্তু আন্ডার ইনভয়েস হওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলের মূল্য পরিশোধ হয়েছে মাত্র ৬৪ লাখ ২২ হাজার টাকা। সে ক্ষেত্রে শুল্ক হিসেবে সরকার পেয়েছে মাত্র ২২ লাখ ১ হাজার টাকা। এখানে প্রায় ৮০ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে সংসদীয় কমিটির পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

 

"