খুলনাঞ্চলের কৃষি

কমছে আবাদি জমি বাড়ছে খাদ্য চাহিদা

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আসাফুর রহমান কাজল, খুলনা

খুলনায় দিনকে দিন বাড়ছে খাদ্য চাহিদা। কিন্তু কমছে আবাদি জমির পরিমাণ। এ জেলায় প্রতি বছরই আবাদি জমি কমছে প্রায় ৪৬০ হেক্টর। অন্যদিকে প্রতি বছরে খাদ্য চাহিদা বাড়ছে প্রায় ৫ হাজার ১৬৯ টন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অবৈধ বালু ভরাট এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণেই কমছে আবাদি জমি আর জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে খাদ্য চাহিদা।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, ১৯৯৩ সালে খুলনা জেলায় কৃষি জমি ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭২৪ হেক্টর, ১৯৯৮ সালে ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৩৮ হেক্টর, ২০০৮ সালে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৬৪ হেক্টর, ২০১২ সালে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৬৪ হেক্টর, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৭ হেক্টর, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৭৩ হেক্টর এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৮২ হেক্টর। অর্থাৎ ১৯৯৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ২৬ বছরে কৃষি (আবাদি) জমি কমেছে ১১ হাজার ৯৪২ হেক্টর। অন্যদিকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ জেলায় খাদ্য চাহিদা ছিল ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৬০৪ টন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪ লাখ ৮০ হাজার ২০০, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৬০৪, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ১৫৬ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ চাহিদা এসে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৪৪৫ টন। এ হিসাবে পাঁচ বছরে খাদ্য চাহিদা বেড়েছে ২৫ হাজার ৮৪১ টন। একসময় এ অঞ্চলে হোগলাপাতা, বজ্রমুড়ি, কৈজুরি, বালাম, বাঁশফুল, কাঁচড়া, খাটো কাঁচড়া, চিনিকানাই জাতের সুগন্ধি ভাটিয়া জাতের ধান হতো। আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় এবং খাদ্য চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা এক ফসলি এসব ধান চাষের আগ্রহ হারাচ্ছে।

কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নের মদিনাবাদ গ্রামের মাস্টার শামসুর রহমান সানা জানান, আগে আমরা একটি জমি একবারই চাষাবাদ করতাম। বালাম, চিনিকানাই, কাঁচড়া জাতের ধান চাষ হতো এ অঞ্চলে। এখন আর সেইসব জাতের ধানের চাষ হয় না। এখন জমি কমে যাচ্ছে, মানুষ বাড়ছে, বাড়ছে খাদ্য চাহিদা। সেই চাহিদা মেটাতে মানুষ এখন এক জমিকে বছরে তিন ফসলি চাষাবাদ করছে।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ পঙ্কজ কান্তি মজুমদার জানান, জনসংখ্যা বাড়ছে। গ্রাম অঞ্চলে বাড়িঘর নির্মাণ, শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া পুকুর-ডোবা-খাল, জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে। যা কৃষির ক্ষতি তো করছেই, সেইসঙ্গে পরিবেশের ক্ষতিও করছে। নষ্ট করছে প্রাকৃতিক সম্পদ। তবে এখন একই জমিতে দুই থেকে তিন ফসলি চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে কৃষি জমি কমলেও এ জেলায় হচ্ছে বাম্পার ফলন।

"