কারুশিল্পীরা ‘শিল্পাচার্য জয়নুল সম্মাননা’ পাবেন

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সৃষ্টিশীল, বৈচিত্র্যময় লোক ও কারুপণ্য তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের অবদান মূল্যায়ন ও স্মরণীয় করতে ‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন আজীবন সম্মাননা’ দেবে সরকার। এ জন্য ‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন আজীবন সম্মাননা নীতিমালা-২০১৯’ এর খসড়া প্রণয়ন করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী ‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন আজীবন সম্মাননা’ বিজয়ীদের সম্মাননা সনদ এবং ১ লাখ টাকার চেক দেওয়া হবে। প্রতি বছর কমপক্ষে একজন নারীসহ সর্বাধিক তিনজন কারুশিল্পীকে এ সম্মাননা দেওয়া হবে। একই বছরে এক জেলা থেকে একাধিক লোক ও কারুশিল্পীকে নির্বাচিত করা যাবে না। লোক ও কারুশিল্পী হিসেবে একবার সম্মাননাপ্রাপ্ত হলে তিনি আর আবেদন করতে পারবেন না বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রোকসানা মালেক বলেন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন আজীবন সম্মাননা নীতিমালাটি খসড়া পর্যায়ে আছে। সবার মতামত নিয়ে এটি চূড়ান্ত করার কাজটি চলমান। বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন নীতিমালাটি বাস্তবায়ন করবে। তাই ফাউন্ডেশনের বোর্ডের অনুমোদন দিয়ে নীতিমালাটি শিগগিরই চূড়ান্ত করতে পারব বলে আশা করছি।

তিনি আরো বলেন, লোক ও কারুশিল্প সেক্টরটি একটু কম গুরুত্ব পায়। যারা এ বিষয় নিয়ে কাজ করে তারা চোখের আড়ালে একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে থাকেন। এসব মানুষকে মূল্যায়ন না করলে শিল্পটি হারিয়ে যাবে। আমরা এমনভাবে একটি নীতিমালা করতে চাচ্ছি যাতে উপযুক্ত ব্যক্তি তার মূল্যায়ন পায়।

নীতিমালা অনুযায়ী মৃৎশিল্প (চিত্রিত মাটির শিল্পকর্ম/মাটির পুতুল/পোড়ামাটির তৈজসপত্র), দারুশিল্প (কারুকার্য সংবলিত কাঠখোদাই বা চিত্রিত দারুশিল্প), শীতল পাটি, বাঁশ ও বেতের কারুশিল্প সামগ্রী, বয়নশিল্প (জামদানি, রেশম ও অন্যান্য তাঁতশিল্প), নকশি হাতপাখা, পাটজাত কারুশিল্প, ধাতব কারুশিল্প, অলংকার শিল্প, নকশিকাঁথা ও সুচিশিল্প ক্ষেত্রে সম্মাননা দেওয়া হবে। এছাড়া শঙ্খ, ঝিনুক ও মুক্তাশিল্প; শোলাশিল্প এবং হস্তনির্মিত কাগজশিল্প, আল্পনা ও নকশা এবং বিবিধ লোক ও কারুশিল্প নিয়ে কাজ করা শিল্পীরাও এ সম্মাননার আওতায় আসবেন। খসড়া নীতিমালায় সম্মাননার জন্য আবেদন যোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে, আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। উৎপাদিত কারুপণ্যে শিল্পীর স্বকীয় বৈশিষ্ট্য, উদ্ভাবনী দক্ষতা এবং নান্দনিকতার বহিঃপ্রকাশ থাকতে হবে। লোক ও কারুশিল্প বিকাশে আবেদনকারীর দৃশ্যমান এবং প্রমাণযোগ্য প্রচেষ্টা ও অবদান থাকতে হবে। আবেদনকারীকে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন/জেলা সমাজসেবা কার্যালয়/জেলা মহিলাবিষয়ক কার্যালয়ের নিবন্ধনভুক্ত বা লোক ও কারুশিল্প সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সমিতির সদস্যভুক্ত হতে হবে। আবেদনকারীর বয়স হতে হবে কমপক্ষে ৬০ বছর।

আবেদন আহ্বান, বাছাই ও মনোনয়ন পদ্ধতি : নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতি বছর ১৭ আষাঢ় থেকে ১৬ শ্রাবণের (জুলাই) মধ্যে দুটি বাংলা ও একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আবেদন আহ্বান করবে। একই সঙ্গে ফাউন্ডেশন সব জেলা প্রশাসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ বা বিভাগ, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন দফতর/সংস্থা, বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদানের বিষয়টি ব্যাপক প্রচারের জন্য চিঠি পাঠাবে।

আবেদন ফরম বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের কার্যালয়, ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট (িি.িংড়হধৎমধড়হসঁংবঁস.মড়া.নফ), সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে (িি.িসড়পধ.মড়া.নফ) পাওয়া যাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে যথাযথভাবে পূরণকৃত আবেদন সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিল করতে হবে। আবেদন ফরম সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রত্যয়ন করাতে হবে। লোক ও কারুশিল্পের স্বীকৃত ক্ষেত্রগুলোর কোনো শিল্পকর্মের জন্য স্থানীয়/জাতীয়/আন্তর্জাতিক সম্মাননা বা স্বীকৃতি পেয়ে থাকলে এর প্রমাণক আবেদনের সঙ্গে দাখিল করতে হবে। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে থাকবেন ছয় সদস্যের জেলা বাছাই কমিটি। আর সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে থাকবেন সাত সদস্যের চূড়ান্ত মনোনয়ন কমিটি।

"