ভরা মৌসুমেও দাম চড়া ইলিশের

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে, তবুও যেন বেড়েই চলছে দাম। প্রায় এক মাস ধরে রাজধানীর মাছের বাজার অনেকটাই ইলিশের দখলে। সব বাজারেই মিলছে বড় বড় ইলিশ। ফলে ক্রেতারাও অনেকটা ইলিশের দিকে ঝুঁকছেন। এরপরও কমছে না মাছের দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে কেজি প্রতি ইলিশের দাম বেড়েছে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা। এক কেজি ওজনের প্রতি পিস ইলিশ মিলছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। ক্রেতাদের অভিযোগ, মাছ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের ইলিশ মাছ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, ইলিশ কিনতে বা দল বেঁধে ইলিশ খেতে ঢাকা থেকে অনেকেই ছুটে যান ইলিশের রাজধানী খ্যাত চাঁদপুরে। কিন্তু সেখানে গিয়ে অনেকেই হতাশ হন দাম শুনে। ব্যবসায়ীদের সেই পুরোনো দোহাই সরবরাহ কম। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, চাহিদা বেশি থাকার সুযোগ নিয়ে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা এবং রেস্টুরেন্ট মালিকরা অতিরিক্ত দাম হাঁকেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, রামপুরা, মোহাম্মদপুর ও খিলগাঁও অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইলিশ মাছ পছন্দ করে না এমন মানুষ পাওয়া যাবে না। তাই দাম বেশি হওয়ার পরও একটি শ্রেণি ইলিশের দিকে ঝুঁকছে। দিন যত যাচ্ছে বাজারে ইলিশের সরবরাহ তত বাড়ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছে, মাছের সরবরাহ চাহিদা অনুপাতে এখনো কম।

জানা গেছে, বাজার ভেদে ১ কেজি থেকে ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি। পিস হিসাবে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি। পিস হিসাবে বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘এত ইলিশ মাছ। তবুও দামে আগুন। হাজার টাকা কেজি চায়। আমাদের মতো মানুষের কি এই দামে ইলিশ কেনা সম্ভব?’

এ সময় কিছুটা বিরক্তির ভঙ্গিতে তিনি বলেন, ইলিশ মাছ বড় লোকের খাবার। গরিবের কপালে এখন আর ইলিশ নেই। এখন ইলিশ কেনা মানেই বিলাসিতা করা। শুধু কী ইলিশ, সব মাছের দাম চড়া, পাঙাস-তেলাপিয়া মাছের কেজি চায় ১৭০ টাকা। রুই মাছ ৩০০ টাকা কেজি। এমন দামে গরিব মানুষ কীভাবে মাছ কিনে খাবে বলেন?

এদিকে চট্টগ্রাম ও বরিশালের আড়তে চার দিনের ব্যবধানে ইলিশের দাম মণ প্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা বেড়েছে। আড়তদাররা বলছে, সাগর উত্তাল থাকায় ইলিশ ধরা পড়ছে কম, তাই দাম একটু বেড়েছে। তবে আগামী সপ্তাহে ইলিশের দাম কমতে পারে। এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক শাহানাজ সুলতানা বলেন, বাজারে ইলিশের দাম বাড়ল কী কমল, সেটা তো আমরা নির্ধারণ করি না। দাম বাড়ার ক্ষেত্রে মাছের উৎপাদন কেমন ও চাহিদা কেমন তার ওপর নির্ভর করে। তবুও ক্রেতারা যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ করে, তাহলে আমরা খতিয়ে দেখব।

চাঁদপুরেও ভরা মৌসুমে প্রতিদিন ঘাটে ইলিশ আসছে এক থেকে দেড় হাজার মণ। কিন্তু ইলিশের ব্র্যান্ডিং করা হলেও এই জেলায় যারা ইলিশ কিনতে যান তারা কতটা খুশি? আড়তের কাছাকাছি হোটেল-রেস্টুরেন্টে দাম কিছুটা কম হলেও শহরের ভেতরে প্রতি পিস ইলিশের যা দাম রাখা হয় তা অন্য জেলায় এমনকি রাজধানীর সমান বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে এখন মাছ কম পাওয়া যায়, তাই দাম বেশি।

স্থানীয়রা জানান, চাঁদপুরের নদীতে ইলিশ কম পাওয়ায় হাতিয়া, সন্দ্বীপ, বরিশাল, ভোলা, চরফ্যাশনসহ উপকূলীয় অঞ্চল থেকে প্রতিদিন ইলিশ আসছে চাঁদপুরে। অথচ সেই ইলিশই সারা দেশে ছড়িয়ে যাচ্ছে চাঁদপুরের ইলিশ নামে। তা ছাড়া, সারা দেশ থেকে মাছ যাওয়ায় রাজধানীতে ইলিশের দাম তুলনামূলক কম বলে জানালেন ব্যবসায়ী নেতারা। বর্তমানে চাঁদপুরের বাজারে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ইলিশের দাম প্রতি মণ ৩২ হাজার টাকা। এক কেজি থেকে ১ হাজার ২০০ গ্রামের ইলিশ ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা।

"