ধ্বংসের পথে শেরশাহের পুল

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আশরাফুল আলম, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)

ষোড়শ শতকে দিল্লির শাসক শেরশাহের আমলে নির্মিত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ঐতিহাসিক গ্রান্ড ট্রাংক রোডে অযতেœ আর অবহেলায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে পিঠাওলীর পুল নামে খ্যাত কোম্পানীগঞ্জ সেতু। সোনারগাঁ উপজেলা সদর এবং বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরে যাতায়াতের প্রধান সড়কে নির্মিত অতি প্রাচীন কোম্পানীগঞ্জ সেতুটিকে স্থানীয় বাসিন্দারা পিঠাওলীর পুল নামেই চেনে। সোনারগাঁয়ের পানাম সেতুর আদলে নির্মিত প্রাচীন এ সেতুটির ইট-সুরকি এখন খসে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির মেরামত ও সংস্কার কাজ না হওয়ায় সেতুটি তার জৌলুস হারিয়ে দিনের পর দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বাড়িমজলিস, হাবীবপুর, চিলারবাগ, দৈলেরবাগ ও কোম্পানীগঞ্জ গ্রামবাসীর অভিযোগ কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থরক্ষায় বলেশ^র খালের ওপর নির্মিত সেতুর দুই পাশে ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ করায় সেতুটি ধবংস হয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে সেতুটির কাছে গিয়ে দেখা গেছে, সেতুটির নিচ দিয়ে বয়ে যাওয়া বলেশ্বর খাল অনেক আগেই স্থানীয়রা ভরাট করে ফেলেছেন। ভরাট করা খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে মার্কেট। সেই ভরাট জায়গার মধ্য দিয়ে ৭-৮ বছর আগে সেতুটির দুই পাশে বিকল্প রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। পানাম নগরে অবস্থিত পানাম সেতুর সমসাময়িক সময়ে এ সেতুটি নির্মিত হয়েছে বলে জানা গেছে। সেতুটি নির্মাণে জাফরি ইট ও চুন সুরকি ব্যবহার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন সেতুটির সংস্কার কাজ না হওয়ায় প্রাচীন অবয়ব অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয় কিছু প্রবীণ ব্যক্তির অভিমত ইংরেজ শাসন আমলে সেতুটি একবার সংস্কার করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এ সেতুটির নাম দিয়েছিলেন কোম্পানীগঞ্জ ব্রিজ। তবে সোনারগাঁবাসীর কাছে আজও এ সেতুটি পিঠাওলীর পুল হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। লোক মুখে প্রচলিত আছে কোম্পানীগঞ্জের এক মহিলা পিঠা বিক্রি করে নিজের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে এ সেতুটি নির্মাণ করেছিলেন বলে এর নাম হয়েছে পিঠাওলীর সেতু। তবে এ রকম তথ্যের কোনো ভিত্তি কিংবা সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সোনারগাঁয়ের ইতিহাস লেখক সামসুদ্দোহা জানান, এ সেতুটিকে পিঠাওলীর পুল বলা একটি মুখরোচক গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়। সোনারগাঁয়ের এ সেতুটি একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সেতু। সম্রাট শেরশাহের আমলে এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এ সেতুটি ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সেতুটি সংরক্ষণে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ন কবির জানান, ছোটবেলা থেকে আমরা এ সেতুটি দেখে আসছি। সম্প্রতি লোক মুখে শুনতে পাচ্ছি একটি কুচক্রি মহল এ সেতুটিকে ভেঙে ফেলে সড়কটি প্রশস্থ করার পাঁয়তারা করছে। অথচ প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এ সেতুটি রক্ষা করেও সড়ক প্রশস্থ করার সুযোগ রয়েছে। সোনারগাঁ উপজেলার প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের দায়িত্বে থাকা ভা-াররক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন এ সেতুটি প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের আওতাধীন নয়। সেতুটি প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের আওতায় আনার জন্য দাবি করা হয়েছে।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার সরকার জানান, এ সেতুটি একটি ঐতিহ্যবাহী সেতু। এটি প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের আওতায় আনার জন্য লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

 

"