শেষপর্ব

দুর্গন্ধের কারণে বাইরের কেউ আত্মীয়তা করতে চায় না

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

মারুফ আহমেদ, কুমিল্লা

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ময়লা খোলা বা স্যানেটারি ল্যান্ডফিল্ডের আশপাশে রয়েছে দৌলতপুর, বাজগড্ডা, জগন্নাথপুর, খামার কৃষ্ণপুর গ্রাম। দিন দিন নষ্ট হচ্ছে এসব এলাকার পরিবেশ, ফসলি জমি ও মরে যাচ্ছে গবাদি পশু। শুধু তাই নয় স্থানীয়রা দুঃখের সঙ্গে জানান, ময়লা খোলার দুর্গন্ধের জন্য বাইরের মানুষ এসব গ্রামের মানুষের সঙ্গে আত্মীয়তাও করতে চান না। হাজার হাজার মানুষ ময়লার দুর্গন্ধ নিয়ে বারবার প্রতিবাদ করেছেন, কোনো কাজ হয়নি। উল্টো প্রতিবাদীদের নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। এই দুর্ভোগ থেকে সুরাহা মিলছে না তাদের। ময়লা খোলা বা স্যানেটারি ল্যান্ড ফিল্ড এলাকার উত্তর দিকের পুরো এলাকাই খোলা। যেখান দিয়ে চলে গেছে বিবিরবাজার বন্দরমুখী সড়কটি। অনেকটা উঁচু করে ময়লা আবর্জনার স্তূপ জমিয়ে রাখায় বৃষ্টিতে বা শুষ্ক মৌসুমেও বর্জ্য থেকে নিঃসৃত দূষণ রাস্তাসহ আশপাশ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পাশের পুকুর, ডোবা, নালা বা জলাশয়, ফসলি জমি দূষণের শিকার হচ্ছে।

সৈকত, রফিক, আনোয়ার নামের স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অনেক ফসলি জমি পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। এসব জমির মালিক বাধ্য হয়ে তাদের জমিতে চাষাবাদ ছেড়ে দিয়েছেন। পরিবেশ বা জলাশয়ে দূষণের কারণে মাছ ও জলজ প্রাণি মরে যাচ্ছে, সেই পানি পান করে রোগাক্রান্ত হচ্ছে গরু-ছাগলসহ গবাদিপশু। এখানকার গরু-ছাগলের মাংস কেউ খেতে চায় না। দুর্গন্ধের কারণে এলাকায় দোকানপাট ও হাট-বাজারসহ ব্যবসা বাণিজ্যের তেমন কোনো কেন্দ্রও গড়ে উঠেনি।

স্থানীয়রা বলছেন, খালি জায়গা পড়ে থাকলেও কোনো ব্যবসা করতে পারছি না। জহির নামের এক যুবক জানান, আমাদের সন্তানদের এই পরিবেশে আদৌ কতটা নিরাপদ রাখতে পারব তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।

ময়লা আবর্জনা বা বর্জ্যরে কারণে এলাকার পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ময়লাখোলা এলাকার জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে। পরিকল্পনা নিয়ে ময়লার স্থান নির্ধারণ করা হোক। এতে পরিবেশ বিপর্যয় রোধ হবে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ওই এলাকার বায়ুদূষণ, পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ময়লাখোলার বর্জ্য ও আবর্জনা থেকে বিকল্প কিছু করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এজন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা প্রশাসকসহ একাধিক মাধ্যমে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সেগুলোতে সফলতা না আসলে সিটি করপোরেশন নিজেই উদ্যোগী হয়ে বিকল্প ব্যবস্থা নেবে।

 

 

"