সীমান্ত পিলারে ‘পাক’ মুছে বাংলাদেশ লেখা হচ্ছে

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

এখন থেকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কোনো পিলারে ‘পাক’ লেখা থাকবে না; থাকবে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের নাম। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর ৮ হাজারের অধিক পিলারে ইংরেজিতে খোদাই করে ইন্ডিয়ার আইএনডি এবং পাকিস্তানের ‘পাক’ লেখা ছিল। বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, জামালপুর, সুনামগঞ্জ, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম সীমান্তের অনেক পিলারে এ ধরনের লেখা ছিল। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান হতে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের এত বছর পরও সীমান্ত পিলারগুলো হতে পাকিস্তানের-পাক শব্দটি মুছে দিয়ে তদস্থলে স্বাধীন বাংলাদেশের নাম না লেখার বিষয়টি সীমান্তের মানুষ এবং যারা বিষয়টি জানেন তাদের কাছে সত্যিই বিড়ম্বনার। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলামের নির্দেশে এবং বিজিবির নিজস্ব তহবিল দিয়ে ওই সব সীমান্ত পিলারে পাকিস্তানের-পাক লেখা পরিবর্তন করে বাংলাদেশের বিডি লেখার কাজ শুরু হয়।

বিজিবির সদস্যরা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে এরই মধ্যে সীমান্ত পিলারগুলো পাকিস্তানের-পাক লেখা মুছে বাংলাদেশের-বিডি লেখার কাজটি প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছে। এ কাজের ফলে লেখা প্রতিস্থাপনের ফলে বিজিবিসহ সীমান্তবর্তী মানুষের মনোবল আরো অনেকগুণ বেড়ে গেছে। এ ছাড়া বিজিবিকে অত্যন্ত দ্রুত ও নিখুঁতভাবে কাজটি করতে দেখে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাসহ দেশের সাধারণ জনগণ বিজিবিকে সাধুবাদ জানিয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী ও বিজিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। দেশের মানুষ বিশ্বাস করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। সীমান্ত পিলারের নাম পরিবর্তন সেই ভূমিকারই আরো একটি অনন্য ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিজিবিকে সীমান্ত পিলারের নাম পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ও মহান দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিজিবির সব সদস্য অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।

 

 

"