কাজে আসেনি ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্প : বরাদ্দও কমছে

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীকে ভিক্ষুকমুক্ত করার পাশাপাশি ভিক্ষাবৃত্তি থেকে দেশকে মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১০ সালে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। গত ৯ বছরেও এ প্রকল্প থেকে কাক্সিক্ষত ফল আসেনি। এর মধ্যে একাধিকবার উদ্যোগ নিয়ে কিছু কিছু ভিক্ষুককে নিজ নিজ জেলায় বিকল্প কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। তবে সেই পুনর্বাসন স্থায়ী হয়নি। অনেক ভিক্ষুকই ফের ফিরে এসেছে আগের পেশায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে মনিটরিং করতে না পারায় এ প্রকল্প থেকে সুফল মিলছে না। এ প্রকল্পের বরাদ্দও বছর বছর কমছে।

সমাজসেবা অধিদফতর বলছে, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠার যোগ্যতা অর্জন করলেও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভিক্ষাবৃত্তি দেশ এগিয়ে যাওয়ার পথে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। সমাজসেবা অধিদফতরের পরিসংখ্যানই বলছে, সারা দেশে প্রায় সাড়ে সাত লাখ ভিক্ষুক রয়েছে। এদের অর্ধেকেরই বাস রাজধানীতে। তবে বেসরকারি হিসাবে সারা দেশে ভিক্ষুকের সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি। ভিক্ষাবৃত্তির মতো অমর্যাদাকর পেশা থেকে এই জনগোষ্ঠীকে নিবৃত্ত করতেই ২০১০ সালের আগস্টে ভিক্ষুক পুনর্বাসনের প্রকল্প হাতে নেয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

‘ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান’ শীর্ষক এ প্রকল্পে শুরুর দিকে ব্যাপক তোড়জোড় করে ভিক্ষুক ও ভবঘুরেদের জরিপ করা হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু চার বছরের মাথায় স্তিমিত হয়ে পড়ে সে কার্যক্রম। ওই প্রকল্পে প্রথম চার বছরে ২৪ কোটি ৮২ লাখ বরাদ্দ দেওয়া হলেও ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ তেমন ফলপ্রসূ হয়নি। পরে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ প্রকল্পে সরকারের বরাদ্দ কমেছে। সমাজসেবা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের আগস্টে ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্প চালু হলেও তা তেমন ব্যাপকতা পায়নি। পরে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এসে প্রথমবারের মতো দেশের ৫৮ জেলায় এ প্রকল্পের আওতায় অর্থ পাঠানো হয়।

"