কাচ ভেঙে যায় কেন?

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

হাত ফসকে কখনো কাচের গ্লাস ফেলে দেননিÑ এমন মানুষ পাওয়া কঠিন। কিন্তু কাচ কেন এত ভঙ্গুর ও নাজুক? ধাতুর তুলনায় কাচের বৈশিষ্ট্যই বা কেন এত আলাদা? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে কাচ সম্পর্কে আরো জানতে হবে। কাচ কেন ভেঙে যায়? তবে সবার আগে জানতে হবে কাচ কীভাবে তৈরি হয়। বালু, সোডা, চুন ও পুরোনো কাচ নতুন কাচ তৈরির উপকরণ। প্রথমে সবকিছু গুঁড়া করা হয়। তারপর ১ হাজর ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রায় গলানো হয়। উত্তাপের ফলে উপকরণগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এক শক্ত রূপ ধারণ করে। সেটি দিয়ে বোতল, গ্লাস বা জানালার কাচ তৈরি করা যায়।

ধাতু নমনীয় হয় ও তা বাঁকানো যায়। কিন্তু শীতল হওয়ার পর কাচ শক্ত ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। খুব বেশি চাপের মুখে আকার বদলানোর বদলে কাচ ভেঙে যায়। ওপর থেকে পড়ে গেলেও কাচ সেই ধাক্কা সামলাতে পারে না। কাচ তাপমাত্রার পরিবর্তনও সহ্য করতে পারে না। ওপর থেকে যে তরল পদার্থ ঢালা হয় তার সঙ্গে কাচের তাপমাত্রার ফারাক বেশি হতে হবে। তাছাড়া শীতল বা গরম করার প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত হতে হবে। শীতল গ্লাসে গরম পানি ঢালা উচিত নয়। ধাতুর তুলনায় কাচ মোটেই ভালোভাবে উত্তাপ বহন করতে পারে না। গরম গ্লাসে শীতল পানি ঢাললে গ্লাসের ভেতরের অংশ সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। কিন্তু বাইরের অংশ গরমই থাকে। ফলে সারফেস টেনশন দেখা যায়। সামান্য চিড় ধরলেও তা ছড়িয়ে পড়ে কাচ ভেঙে দেয়। শব্দ তরঙ্গও কাচ ভেঙে দিতে পারে। তবে তার জন্য নির্দিষ্ট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে দীর্ঘ সময় ধরে জোরালো শব্দ সৃষ্টি করতে হবে। সেক্ষেত্রে কাচের মধ্যে কম্পন দেখা দেবে, যেমনটা এই সেতুর ক্ষেত্রে দেখা যায়। অনেক সময় ধরে দুলতে থাকলে বিপর্যয় দেখা দেবে। কাচ তখন ভেঙে যাবে। কোনো ত্রুটি, দুর্বলতা অথবা সামান্য চিড় ধরলেও কাচ সহজেই ভেঙে যায়।

 

"