উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এলডিজি অর্জনে বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এখনো উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। কাজেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার লক্ষ্য অর্জনে উন্নত পয়োনিষ্কাশন সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। গতকাল বুধবার রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু হোটেলের উৎসব হলে ‘ন্যাশনাল সেনিটেশন ইন্ডাস্ট্রি কনসালটেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নে উৎসাহিত করতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ইউনিসেফ যৌথভাবে দুদিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে। পরে মন্ত্রী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবিত পয়োনিষ্কাশন সামগ্রীর প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেই কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছার আগেই কিছু ষড়যন্ত্রকারী তাকে থামিয়ে দেয়। তার যোগ্য উত্তরসূরি তারই মেয়ে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণের পর বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দেশ গড়তে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ শুরু করেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্যসহ প্রয়োজনী মৌলিক চাহিদা পূরণে বহুমুখী উন্নয়ন কর্মতৎপরতাও শুরু করেন। আর উন্নত সেনিটেশন ব্যবস্থাও সরকারের এ বহুমুখী কর্মতৎপরতার অংশ।

তিনি বলেন, শতভাগ সেনিটেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাকেও উন্নত করতে হবে। মন্ত্রী জানান, শহর এলাকার বর্জ্যকে রিসাইকেল করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। দূষিত পানিতে যাতে নদ-নদী দূষণের শিকার না হয়, এ জন্য বর্জ্য ও পানি শোধন ব্যবস্থা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের শতভাগ শিশুকে স্কুলে পাঠানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য সারা দেশের স্কুলগুলোতে পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর শতভাগ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি উদ্ভাবনী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্রামের প্রতি ছয় হাজার মানুষের জন্য মিনি হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জহিরুল ইসলাম, বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের প্রথম সচিব ডেরেক জর্জ, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম, ইউনিসেফের ওয়াশ কর্মসূচির প্রধান ডোরা জনস্টন এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইফুর রহমান।

বেলারুশ থেকে আমদানি করা যান-যন্ত্রপাতি পরিদর্শন করলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম গতকাল বুধবার দুপুরে গাবতলী বেড়িবাঁধ-সংলগ্ন কিচেন মার্কেটে বেলারুশ থেকে আমদানি করা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের যান-যন্ত্রপাতি পরিদর্শন করেছেন। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক জি টু জি-এর আওতায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার কাজে বেলারুশ থেকে এসব যান-যন্ত্রপাতি কেনা হয়। ক্রয় করা যান-যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছেÑ স্কিড লোডার, বেক-হো-লোডার, হুইল লোডার, টুইন ড্রাম ভাইব্রেটরি রোড রোলার, কম্বাইন্ড অ্যাসফল্ট রোলার প্রভৃতি।

 

 

"