দেশে এখনো ৩ কোটি ২৫ লাখ লোক লেখাপড়া জানে না

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ২৬ দশমিক ১ শতাংশ লোক এখনো নিরক্ষর। অর্থাৎ সংখ্যার দিক থেকে নিরক্ষরতার অন্ধকারে ডুবে থাকা লোকের সংখ্যা ৩ কোটি ২৫ লাখ। এদের মধ্যে ৫০ লাখ অক্ষরজ্ঞানহীন লোককে আগামী দুই বছরের মধ্যে সাক্ষরতার আলো দিতে চায় সরকার। এমন লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। চারটি মেগা প্রকল্প নিয়ে শুরু করা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো। এই বাস্তবতায় গতকাল রোববার বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো বলছে, বর্তমানে দেশে সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশ; যা গত বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের চেয়ে ১ শতাংশ বেশি। এখন ৭ থেকে ১৫ বছর বয়সিদের সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ২ শতাংশ। আর ১৫ বছর বয়সিদের গড় সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশ। যা গেল বছর ছিল ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে এ সফলতায় সন্তুষ্ট নয় সরকার। নীতিনির্ধারকরা বলছেন, সারা দেশে যে ২৬ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ নিরক্ষরতার অন্ধকারে রয়েছে, তাদের মাঝে সাক্ষরতার আলো পৌঁছে না দেওয়া পর্যন্ত আত্মতৃপ্তির সুযোগ নেই।

এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন জানান, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিক্ষা খাতের টার্গেট পূরণ করতে চায় সরকার। ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশ সাক্ষরতার হার বৃদ্ধিতে সন্তুষ্ট নন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো দেশের ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ নিরক্ষরতার অন্ধকারে ডুবে রয়েছে। তাদের সাক্ষরতার আলো দিতে পারলেই সফলতা আসবে। আসছে ২০২০-২১ মুজিববর্ষের মধ্যে আরো প্রায় ৫০ লাখ মানুষকে নিরক্ষরমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক তপন কুমার ঘোষ জানান, এসডিজি লক্ষ্য অর্জন সামনে রেখে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের ১৬ উপজেলার ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সি ২১ লাখ মানুষকে প্রাথমিকভাবে সাক্ষরতার আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে। এরই মধ্যে নিরক্ষরদের শনাক্তে জরিপের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী নভেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

এর বাইরে চারটি বড় প্রকল্পের মাধ্যমে নিরক্ষরমুক্ত করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো। দেশের ৬৪ জেলায় মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত ২৫০টি উপজেলার ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সি ৪৫ লাখ নিরক্ষর মানুষকে সাক্ষরতা জ্ঞান দেওয়া হচ্ছে। পিইডিপি-চার এর আওতায় বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশুদের জন্য উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্পে দরিদ্র, অনগ্রসর, শিশুশ্রমসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় পিছিয়ে থাকা ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সি ৫ লাখ শিশুকে উপানুষ্ঠানিক পদ্ধতিতে সাক্ষরতা দেওয়া হবে।

"