সৈয়দপুরে রেলের জমিতে অবৈধ স্থাপনা

ঘুষ-বাণিজ্যের পাঁয়তারা বাসিন্দারা আতঙ্কিত

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর (নীলফামারী)

সৈয়দপুর রেল বিভাগের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে রেলওয়ের জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদের নোটিশ জারি করা হয়েছে। এ উচ্ছেদ বন্ধ করতে শহরের কজন ব্যক্তি মোটা অঙ্কের ঘুষ বাণিজ্য করার পাঁয়তারা করছে বলে জানা গেছ। গত মাসের শেষদিকে শহরে উচ্ছেদের মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের পর থেকেই শুরু হয়েছে নেতাকর্মীদের তদবির বাণিজ্য। এতে প্রমাদ গুনছেন রেলের জমিতে বসবাসকারী মানুষজন। তারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

রেল সূত্র জানায়, সৈয়দপুর শহরে রেল বিভাগের রয়েছে ৮০০ একর ভূসম্পত্তি। ১৮৭০ সালে আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের বিশাল কারখানা সৈয়দপুরে নির্মিত হওয়ার সূত্র ধরেই রেল বিভাগ এসব ভূসম্পত্তি সরকারের অধিগ্রহণ সূত্রে পেয়েছে। কিন্তু দখলবাজরা রেল বিভাগের দুর্নীতিবাজ ও রেল শ্রমিক নেতাদের ম্যানেজ করে পর্যায়ক্রমে ওই সম্পত্তিগুলো দখলে নিয়ে দিনে অথবা রাতে গড়ে তুলেছেন আবাসিক ভবন এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রেল বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গত দিনে চোখ কান বন্ধ রাখলেও সম্প্রতি সেগুলো উচ্ছেদের নোটিস করেন। একই সঙ্গে যেসব পরিবার প্রকৃত ভূমিহীন তাদের পুনর্বাসন করার পরিকল্পনা হাতে নেন তারা। আর যারা রেলওয়ের জমিতে অবৈধভাবে বহুতল ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছেন শুধুমাত্র সেগুলো উচ্ছেদ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

রেল বিভাগের কানুনগো জিয়াউল ইসলাম জানান, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর শহরের কয়ামিস্ত্রিপাড়ার বাঁশবাড়ি রোডের উভয় পাশের আদর্শ কলেজ মোড় পর্যন্ত এবং গোলাহাট থেকে মুন্সিপাড়া এলাকায় অবস্থিত সব অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। ৩০ সেপ্টেম্বর শহরের অফিসার্স কলোনি ধুপিমাঠ দারুল উলুম মাদ্রাসা মোড়, বাঙ্গালীপুর নিচুকলোনি ও হাতিখানা এলাকার রেল ভূমিতে গড়ে ওঠা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলে জানান তিনি।

একাধিক ব্যবসায়ী জানান, সৈয়দপুর বিমানবন্দরটি দেশের চতুর্থতম বিমানবন্দরে রূপ দিতে এবং রেলওয়ের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে রেলওয়ের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার প্রস্তুতি নিয়েছে রেল প্রশাসন। এদিকে

সৈয়দপুর শহরের কজন নেতা নিজেদের পকেট ভারী করতে শহরবাসীর মাঝে ব্যাপক উচ্ছেদের আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছেন। যত সামান্য উচ্ছেদ নয়, শহরের সব অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হবে গুজব ছড়িয়ে শহরবাসীর মাঝে আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন তারা। আর আতঙ্কিত জনসাধারণ তাদের অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে না দেয়ার আশায় ওইসব নেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন।

রেলওয়ের জমিতে বসবাসকারী জাভেদ ও মুন্নি জানান, তারা রেলওয়ের স্টেশন এলাকার বড় মসজিদ সংলগ্ন এক বস্তিতে বসবাস করছেন। সম্প্রতি রেল বিভাগের উচ্ছেদ নোটিশ পেয়ে তাদের বস্তি যাতে খলি করা না হয় সেজন্য মোবারক নামের এক যুবক ওই বস্তিতে বসবাসরত প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের কাছ থেকে ৫০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছেন। অপরদিকে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধে নেতাকর্মীরাও বাস্তুহারাদের বসবাসের অধিকার বাস্তবায়নে আন্দোলনের কথা বলে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। উচ্ছেদ নিয়ে কথা হয় পাকশি রেল বিভাগের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুজ্জামানের সঙ্গে।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, রেলওয়ের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সৈয়দপুর শহরে প্রথমত রেলওয়ে ভবন, রেলওয়ে অফিসার্স কোয়ার্টার, শ্রমিক কোয়ার্টার, রেললাইন, রেলওয়ে কারখানা ও ড্রেন সংলগ্ন অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। রেলওয়ের জমিতে অবৈধভাবে বসবাসরত অন্যদের বৈধতা নিতে রেল বিভাগের দফতরে যোগাযোগ করার কথা বলেন তিনি। তিনি আরো বলেন, যারা উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধে আন্দোলন করছেন তাদের আন্দোলন কার্যকর হবে না।

 

"