নালিম চাষে লাভবান কৃষক

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আসাফুর রহমান কাজল, খুলনা

অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে অধিক ফসল ফলছে, এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। মাত্র ৩০ দিনে প্রতিটি নালিম গাছ থেকে হাজার টাকা আয় হচ্ছে। অধিক মুনাফা হওয়ায় জেলার কৃষকরা এখন বাঙ্গি জাতীয় ফল নালিম চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কৃষি অফিস বলছে, বাণিজ্যিক মুনাফার কারণে কৃষকদের কাছে অন্যতম অর্থকরী ফসল হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে নালিম চাষাবাদ।

ডুমুরিয়ার উপজেলার শরাফপুর এলাকার মো. সারোয়ার হোসেন সরদার। গত বছর বেড়াতে গিয়ে সেখানে দেখেন এই নালিম। দেখে পছন্দ হলে, মাত্র চারটি নালিম বীজ নিয়ে আসেন। বাড়িতে ফিরে সেই চারটি বীজ বপন করেন তিনি। সেই গাছের ফল সংগ্রহ করে বীজ তৈরি করেন। চলতি বছরের ভাদ্র মাসে সেই বীজ রোপণ করেন। রোপণের মাত্র ২৮ থেকে ৩০ দিনের মাথায় ফল বিক্রি শুরু করেন তিনি।

নালিম লাউ, কুমড়ার মতো লতা জাতীয় গাছ। গাছের মাচায় অথবা মাটিতে বিছিয়ে থাকে। নালিমের রং বাঙ্গিরই মতো। কাঁচা অবস্থায় এটি সবুজ কিন্তু পাকলে গাঢ় হলুদ ও ব্যাপক সুগন্ধি হয়। এ ছাড়া ফলটির স্বাদ বাঙ্গির মতোই। নালিম ফলের আকারটা একটু ছোট ও গোলাকার। প্রতিটি ফল ৩ থেকে সাড়ে ৪ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রায় ৩ মাসের জীবনকাল থাকায় খুব অল্প সময়ে কৃষকরা এটি বিক্রির মাধ্যমে নগদ অর্থ ঘরে তুলতে পারেন। এটি ঘেরের আইল, পেয়ারা বাগানের সাথী ফসল হিসেবে চাষ করা যায়। আবাদ পদ্ধতি বাঙ্গির মতোই।

শরাফপুর এলাকার কৃষক মো. সারোয়ার হোসেন সরদার জানান, এ বছর ঘেরের আইলে এবং বসতবাড়ির আঙিনায় প্রায় ৫০টি বীজ বুনি। কিন্তু গোড়ায় পানি জমে যাওয়ায় কিছু গাছ মরে যায়। এরই মধ্যে ৫০টির বেশি ফল বিক্রি করেছি। প্রতি নালিম বিক্রি করেছি ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। নালিম চাষাবাদে পরিচর্যা তেমন লাগে না। লবণাক্ত জমিতেও এর চাষাবাদ করা যায়। আমি নালিমের চাষে জৈব সার ব্যবহার করেছি।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোসাদ্দেক হোসেন জানান, নালিম একটি উচ্চমূল্যের ফসল, ডুমুরিয়ার আবহাওয়া নালিম চাষের জন্য অনুকূল। ডুমুরিয়ার ঘেরের আইলে সবজির পাশাপাশি এটা চাষ করলে কৃষক অত্যন্ত লাভবান হবেন। এটি সম্প্রসারণে আমরা কাজ করব এবং আগামীতে এর আবাদ এলাকা আরো বৃদ্ধি পাবে।

খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক পঙ্কজ কান্তি মজুমদার জানান, নালিম বাঙ্গির অনুরূপ একটি ফল। এটির বাণিজ্যিক গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়াই ভবিষ্যতে এটির চাষ আরো বাড়বে। আমরা সে লক্ষ্যে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। বাঙ্গির বিকল্প ফল হিসেবে নালিম খাদ্য হিসাবে মানুষের কাছে এটি জনপ্রিয়। নালিম খেলে শরীর ঠা-া ও সতেজ হয়। বেশি মুনাফার কারণে জেলার কৃষকদের কাছে অন্যতম অর্থকরী ফসল হিসেবে গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে নালিম চাষাবাদ। বাড়ছে এর আবাদ।

 

"