অপারেশন টোয়াইলাইট

আতিয়া মহলের ৩ ‘জঙ্গির’ বিরুদ্ধে চার্জশিট

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

সিলেট প্রতিনিধি

প্রায় আড়াই বছর আগে সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলে কমান্ডো অভিযানের সময় আত্মাঘাতী বিস্ফোরণে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘নব্য জেএমবির’ তিন সমস্যের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিলেটের পিবিআই পরিদর্শক আবুল হোসেন গতকাল শনিবার দুপুরে সিলেটের মহনগর হাকিম আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেন।

অভিযুক্ত তিনজন হলো বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছডি উপজেলার উত্তর বাইশারি যৌথ খামার এলাকার নূরুল আলমের ছেলে জহিরুল হক জসিম (২৬), তার স্ত্রী আর্জিনা ওরফে রাজিয়া (১৯) ও বাইশারি ঘোড়ামারা এলাকার নূর হোসেনের ছেলে মো. হাসান (২৫)।

২০১৭ সালের ২৪ মার্চ ভোরে আতিয়া মহলে এই ‘জঙ্গি আস্তানার’ সন্ধান পায় আইনশৃংখলা বাহিনী। এরপর চার দিন ওই বাড়ি ঘিরে চলে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দলের ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’।

২৮ মার্চ অভিযান শেষে ওই বাড়ির ভেতরে চারজনের লাশ পাওয়া যায়। ভবনটির বিভিন্ন স্থানে প্রচুর বিস্ফোরক পাওয়ার থাকার কথা জানায় র‌্যাব। এ ঘটনায় এসআই সুহেল আহমদ মোগলাবাজার থানায় অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ শেষ হওয়ার পর ভবনটিতে প্রচুর বিস্ফোরক থাকায় সে সময় আরেক অভিযান শুরু করে র‌্যাব।

অভিযান শেষে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৯-এর অধিনায়ক আলী হায়দার আজাদ আহমদ জানান, পাঁচতলা ভবনের ২৮টি ইউনিটের সবগুলো কক্ষ পরীক্ষা করে র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেখান থেকে নয়টি বিস্ফোরক উদ্ধার করে র‌্যাব নিষ্ক্রিয় করে। তা ছাড়া ভবনের নিচতলা থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক বানানোর সরঞ্জাম ও বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ ও ইলেকট্রনিক সার্কিট মেলে।

তিনি বলেন, ভবনের নিচতলায় ছয়টি ইউনিটে জঙ্গিরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখেছিল বহু আইইডি। ফলে এ ইউনিটগুলোর সব আসবাবপত্র ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। তবে বাকি চারটি ফ্লোরের সব ইউনিটের আসবাবপত্র যে অবস্থায় ছিল, সে অবস্থায় রেখেই অভিযান চালায় র‌্যাব।

ক্লিয়ারিং অপারেশন চ্যালেঞ্জিং ছিল উল্লেখ করে র‌্যাব অধিনায়ক বলেন, প্রচুর বিস্ফোরক থাকায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে র‌্যাব বেশ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করে। তাই একটু সময় বেশি লাগে। পরে তারা পুলিশকে ভবনটি বুঝিয়ে দেয়।

এ অভিযান এক নারী এবং তিন পুরুষ নিহত হন। ময়নাতদন্ত শেষে চারজনকে সিলেটের হজরত মানিকপীর গোরস্তানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।

"